মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেল নিয়ে বিবৃতি প্রদান

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

নবম জাতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বেতন কাটছাঁট করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতন কমানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

বরং বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়িয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।

সে হিসাবে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়লে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। এ সুপারিশ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মতে, অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সে তুলনায় বর্তমান প্রস্তাব অপর্যাপ্ত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মচারীদের ধারাবাহিক দাবির পর নবম পে স্কেল আসছে। এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বেতন বাড়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না।

সংগঠনটির ভাষ্য, নবম পে স্কেলে যে পরিমাণ বেতন বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, এর তুলনায় দ্রব্যমূল্য অনেক বেশি বেড়েছে। ফলে পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি বলেছে, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে-স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল।

সেখানে দুটি পে স্কেলের সমন্বয় করে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। তবে ওই দাবির তুলনায় কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

অন্যদিকে ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এতে বেতন কাঠামোয় বৈষম্যের আরেকটি স্তর তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও কমিয়ে দেয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ও বর্তমান দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে সাধারণ কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে অস্থিরতা, হতাশা ও অভাব আরও বাড়তে পারে।

সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সংগঠনটির নেতারা সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন