মঙ্গলবার
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর থেকে কবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি
expand
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি

দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত দেশের একমাত্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি তথা ফুয়েল লোডিং করা হবে আজ।

মূলত এর মাধ্যমে এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ থেকে সরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা অপারেশনাল ফোকাসে চলে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্ধোধন করা হবে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, রূপপুরের বিদ্যুৎ নেওয়ার জন্য জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি প্রস্তুত। এ জন্য যেসব সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কথা সেসব শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ফুয়েল লোডিং শেষ হতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে। এরপর আরও প্রায় ১৫ দিন চলবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে এ ধাপ সম্পন্ন হবে। এরপর প্রায় দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ আগামী আগস্টে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে পারব বলে আশা করছি। এটাকে ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করতে চেষ্টা করব। ডিসেম্বরের শেষ থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে ১ হাজার মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে দেব।’

তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং শুরু হবে ২০২৭ সালের জুনে। সে বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে গ্রিডে।

এর আগে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জ্বালানি ‘ইউরেনিয়াম’ আসে বাংলাদেশে। এত দিন সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রকল্প এলাকায় এ জ্বালানি সংরক্ষিত ছিল।

উল্লেখ্য, প্রায় এক যুগের পথচলায় মহামারি, বৈশ্বিক সংঘাতসহ নানা চ্যালেঞ্জ এলেও থেমে থাকেনি প্রকল্পের অগ্রগতি। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এখন পরীক্ষামূলক উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে।

তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ‘কোর ক্যাচার’ প্রযুক্তি। এটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প কিংবা ১০-১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসেও টিকে থাকতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে কেন্দ্রটি ৮০-৯০ বছর পর্যন্ত সচল রাখা সম্ভব।

রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল বান্ডেল। প্রতিটি বান্ডেলে থাকে ১৫টি করে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ রড। এরই মধ্যে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষণে রাখা হবে।

চুল্লিতে এসব বান্ডেল স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন শুরু হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে, যার মাধ্যমে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন