

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদের অধিবেশন মুলতবি করে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ আদেশ নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে নোটিশ উত্থাপন করেন। নোটিশ উত্থাপনের পর সংসদে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় অনির্ধারিত বিতর্ক হয় সরকারি দল এবং বিরোধীদলের মধ্যে।
সংসদীয় বিধি লঙ্ঘন করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। প্রস্তাবের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা বিধিসম্মত নয়।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিরোধীদলীয় নেতা এ নোটিশ উত্থাপন করেন।
তারপর আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে জাতি এক ধরনের বিভ্রান্তিতে আছে। এছাড়া তিনি জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আলোচনার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
সেসময় ফ্লোর নিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, বিধি-৭১ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে এ নোটিশ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ফ্লোর নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলের এমন নোটিশ ও মুলতবি প্রস্তাব ত্রুটিপূর্ণ। বিরোধী দলের এ নোটিশ সংশোধন ছাড়া আলোচনা হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বিধি মোতাবেক আলোচনার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সরকারি দল। সংসদের রীতি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির পর মুলতবি প্রস্তাব আলোচনা হতে পারে। তখন সরকারি দলও পয়েন্ট অব অর্ডারে কিছু কথা বলবে। পাশাপাশি তিনি স্পিকারকে বিধি মোতাবেক এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমার পয়েন্ট অব অর্ডার হচ্ছে– প্রথমে মাননীয় স্পিকারকে অনুরোধ করেছিলাম সেদিন, যেদিন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এই একই বিষয়টা উত্থাপন করেছিলেন, যে উনাকে নোটিশ দিতে বলেন। এটার নোটিশের প্রয়োজন আছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই বিষয়ে আপনি আলোচনা করে ফয়সালা দিবেন। বিধান হচ্ছে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব। রুলস অব প্রসিডিউরের ৬২ বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে, একটি কপি সৌভাগ্যক্রমে আমি এখানে পেয়েছি। টেবিলে মুলতবি প্রস্তাবের বিষয় লিখেছে ‘সাম্প্রতিক ও জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য এই সংসদের কাজ এখন মুলতবি করা হোক’।
নোটিশের কারিগরি ত্রুটি তুলে ধরে তিনি বলেন, নোটিশ তো আপনি দিতে পারবেন জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। কিন্তু জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিতে গেলে তো আপনাকে বিধি ৬৮-তে যেতে হবে। দিস ইজ মাই পয়েন্ট অব অর্ডার। এবং সেখানে আপনি সময় পাবেন আধা ঘণ্টা আলোচনার। এখন যদি আপনি সংশোধন করতে চান, সংশোধন করতে পারেন। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে সংশোধিত নোটিশ আবার দিতেও বলতে পারেন; আপনার রাইট আছে। ইউ আর দ্য লর্ড অব দি হাউস। আপনি এই পার্লামেন্টে সবকিছু সংশোধন করতে পারবেন। সেই হিসাবে যদি আপনি এখতিয়ার প্রয়োগ করেন, তাহলে উনি আবার নোটিশ প্রদান করতে পারেন অথবা আপনি সংশোধিত আকারে নিতে পারেন।
এসময় সাময়িক হট্টগোলের সৃষ্টি হলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, সংসদের রীতি মেনে বিধি-৭১–এর নোটিশগুলো নিয়ে আলোচনা শেষে তিনি বিরোধী দলের আনা নোটিশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। এজন্য ৩১ মার্চ কার্যসূচির সবশেষ ২ ঘণ্টা এ নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত দেন তিনি।
তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, পুনরায় প্রশ্নোত্তর পর্ব চলতে থাকে। দিনের কার্যবিধি শেষ হলে, সংসদ আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পিকার।
মন্তব্য করুন
