

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই বৈশ্বিক অস্থিরতার চাপ অনুভব করতে শুরু করেছে নতুন সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে পড়তে শুরু করেছে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার এখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চলমান জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো সচল রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় এরই মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে, যার প্রভাব পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দামে পড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে কয়েকটি বড় উদ্যোগ হাতে নেয়। তবে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি পেলে এসব কর্মসূচির অর্থায়নে চাপ তৈরি হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছে।
এরই মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনা, বৈদেশিক মুদ্রার সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকলেও সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। এখন আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করছে—এই চাপের মধ্যে সরকার তাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে।
মন্তব্য করুন
