শুক্রবার
৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্লান্তি কাটাতে অলস ছুটি কাটানোর নতুন ট্রেন্ড ‘স্লোকেশন’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

আজকাল ছুটি পাওয়া মানেই যেন নতুন কোনো ডেস্টিনেশন, ব্যাক-টু-ব্যাক সাইটসিয়িং, ছবি তোলার তাড়া আর ঘড়ির কাঁটার সাথে দৌড়ানো।

কিন্তু এই ব্যস্ত ছুটির পর কাজে ফিরে নিজেকে রিফ্রেশড মনে হওয়ার বদলে অনেক সময়ই দ্বিগুণ ক্লান্ত লাগে। ঠিক এই জায়গা থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘স্লোকেশন’ (Slowcation) ধারণাটি।

Slow এবং Vacation- এই দুই শব্দের মিলনে তৈরি স্লোকেশনের মূল কথা হলো: ছুটির দিনে কোথাও দৌড়াদৌড়ি না করে শুধু ‘থাকা’র আনন্দটুকু উপভোগ করা।

স্লোকেশন কী?

স্লোকেশন হলো এমন এক ধরনের ভ্রমণ, যেখানে একাধিক ট্যুরিস্ট স্পট কাভার করার চেয়ে ‘বিশ্রাম নেওয়া’ এবং ‘নিজের সাথে সময় কাটানো’ বেশি প্রাধান্য পায়।

কোনো কোলাহলমুক্ত রিসোর্ট, শান্ত কোনো পাহাড়ি গ্রাম, নদীর পারের বাংলো কিংবা নিভৃত কোনো চা বাগানের কটেজে ২-৩ দিন অলস সময় কাটিয়ে দেওয়া- এটাই হলো স্লোকেশন।

এখানে সকাল সকাল অ্যালার্ম দিয়ে ওঠার তাড়া থাকে না, থাকে না কোনো ধরাবাঁধা রুটিন। স্রেফ প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সঁপে দিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থমকে যাওয়াই এই ধরনের ছুটির আসল সৌন্দর্য।

একটি আদর্শ স্লোকেশনের দিনলিপি

একটি আদর্শ স্লোকেশনের দিনগুলো কাটে খুব ধীর আর শান্ত ছন্দে। সকালটা শুরু হয় অ্যালার্মের কর্কশ শব্দ ছাড়া। ব্যালকনিতে বসে এক কাপ গরম চা হাতে পাখির ডাক শোনা কিংবা বারান্দায় অলস হেলে থাকা ইজিচেয়ারে সময় কাটানো দিয়েই শুরু হয় দিন।

ফোন, ল্যাপটপ আর সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন থেকে দূরে থেকে মন যা চায়- একটানা একটা বই পড়ে শেষ করা, পছন্দের গান শোনা, গ্রামে বা রিসোর্টের আঁকাবাঁকা পথে কোনো গন্তব্য ছাড়া উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটা, কিংবা শুধুই নিবিড় মনোযোগে বৃষ্টি দেখা- সবই হতে পারে এর অংশ। একই সাথে স্থানীয় টাটকা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ উপভোগ করাও এই অলস ছুটির অন্যতম বড় আনন্দ।

স্লোকেশনের প্রয়োজনীয়তা ও মানসিক প্রশান্তি

আমাদের দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ আর ডিজিটাল ডিভাইসের ভিড়ে মস্তিষ্ক যখন একটানা সচল থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন স্লোকেশন আমাদের মানসিকভাবে রিচার্জ হতে সাহায্য করে।

ইট-কাঠের শহরের খাঁচা থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির নীরব সান্নিধ্যে কয়েকটা দিন কাটালে মানসিক ক্লান্তি বা ‘বার্নআউট’ নিমেষেই দূর হয়ে যায়।

একের পর এক জায়গায় গিয়ে ছবি তুলে নেটদুনিয়ায় পোস্ট করার চেয়ে, এক জায়গায় শান্ত হয়ে বসে নিজের ভেতরের প্রশান্তি খুঁজে পাওয়ার মূল্য অনেক বেশি।

কারণ জীবনটা কোনো দৌড় প্রতিযোগিতা নয়। মাঝে মাঝে একটু থমকে দাঁড়িয়ে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নেওয়াটাও জীবনকে নতুন করে ভালোবাসারই অংশ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন