বুধবার
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার আরেক মামলায় কারাগারে রামমন্দির নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১১ পিএম
আদালতে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। ছবি: সংগৃহীত
expand
আদালতে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে এবার ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

পরে ঢাকার আরেক অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হরিদাস চন্দ্র তরণীর জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী বাসুদেব গুহ। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট হরিদাসের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করেন মাহবুবুর রহমান। উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। মামলার পরদিন ২৫ আগস্ট হরিদাসকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মাসুদ রানা। আদালত শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।

এদিন কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী মাহবুবুর রহমান ও আসামি ওবাইদুল ইসলাম কলেজজীবনের বন্ধু। তারা দুজনই রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে বসবাস করেন।

ওবাইদুল নিজেকে অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার অফিস রয়েছে। এ সময় মাহবুবুর রহমান নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এজাহারে বলা হয়, ফ্ল্যাট কেনার জন্য ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ওবাইদুলকে মোট ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন মাহবুব। পরে ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে জানিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হলে সেই টাকাও দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে ওবাইদুল সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। টাকা ফেরত চাইলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মাহবুব।

পরে নিকুঞ্জে ওবাইদুলের অফিসে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। তখন ওবাইদুল তার ব্যবসায়িক অংশীদার হরিদাস চন্দ্র তরণী আসছেন বলে জানান।

কিছুক্ষণ পর হরিদাস ওই অফিসে গিয়ে মাহবুবকে বলেন, তার কাছে টাকা নেই, তবে ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি ফ্ল্যাট দিতে পারবেন। তার কথায় বিশ্বাস করে মাহবুব ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, মাহবুবুর রহমান ও ওবাইদুল ইসলাম মিলে আসামিদের মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও তাদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাহবুবুর রহমান উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে করা একটি মামলাও রয়েছে। ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank