রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ বছর আগে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা, খালাস পেলেন আব্দুর রহিম

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand

২০১৪ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় স্ত্রী মেরিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ ১২ বছর পর খালাস পেয়েছেন তার স্বামী আব্দুর রহিম।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক এলিনা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. ওমর ফারুক।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আব্দুর রহিমকে বারবার দোয়া পড়তে দেখা যায়। এ সময় তিনি বিচারকের উদ্দেশে আবেগাপ্লুত হয়ে বলতে থাকেন, “আমি এটা করিনি, আমি এটা করিনি।” দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার রায়ের মুহূর্তে তাকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, শুরুতে ঘটনাটি নিয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। ওই মামলা করেন নিহতের মামা। পরবর্তীতে ওই মামলায়ও আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তিনি খালাস পান।

এরপর ঘটনার প্রায় দুই মাস ২৪ দিন পর নিহত মেরির মা বাদী হয়ে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পায়নি বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছেও যায়। সেখানেও আসামির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

আইনজীবী মো. ওমর ফারুক আরও বলেন, মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে আসামিপক্ষ ১১ জনকে জেরা করার সুযোগ পেয়েছে। বাকি দুই সাক্ষীকে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে হাজির করতে পারেনি। এছাড়া বাদিনীর সাক্ষ্য ও জবানবন্দিতে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার মতো কোনো উপাদান রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।

মামলার নথিপত্র, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আদালত শেষ পর্যন্ত আব্দুর রহিমকে খালাসের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে বের হওয়ার সময় আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা মামলার কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন। খালাস পাওয়ায় তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া প্রকাশ করেন। এ সময় আবেগআপ্লুত হয়ে আবদুর রহিম বলেন "খালাস পেয়েছি ,এটা মিথ্যা মামলা ছিলো ,আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই "এরপর তিনি আর কোনো কথা বলতে চাননি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank