

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বাসভঙ্গ, জাল-জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে তিনটি ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে তিন ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ব্যাংকটির সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক ও শওকত আলী।
বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জাল-জালিয়াতির দায়ে প্রত্যেককে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের দায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শওকত আলী আদালতে উপস্থিত হননি। তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০২ সালে মোহাম্মদ ইউসূফ আলী ঢাকা ব্যাংকে হিসাব খুলে প্রথমে ১৭ লাখ টাকা এবং পরে ঋণসীমা বাড়িয়ে ২৪ লাখ টাকা নেন। জামানত হিসেবে কনফিডেন্স সিমেন্ট ও মেঘনা সিমেন্টের শেয়ার জমা দিলেও পরে সেগুলো ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। ভুয়া শেয়ার ব্যবহার করে তিনি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন। শওকত আলী তাকে শনাক্ত করে অসৎ উদ্দেশ্যে সহযোগিতা করেছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ৩১ মে মতিঝিল থানায় মামলা হয়। তদন্ত শেষে প্রথমে শুধু শওকত আলীকে অভিযুক্ত করা হলেও অধিকতর তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ইউসূফ আলীর সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত চার আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।


