

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কর্মঘণ্টায় ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এমন কোনো ঘটনা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারিক জীবন সেদিনই শেষ হয়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অভিভাষণে দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এ সময় প্রধান বিচারপতি আদালতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, সততা ও পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আদালতে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পরপরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।
অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বিচার বিভাগে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির স্থান নেই। বিচারকদের সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে তাকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
মামলার রায় ও আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে অযথা বিলম্ব না করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, শুনানি শেষে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই রায় দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। দেরি হলে মামলার নথি নতুন করে পর্যালোচনা করতে হয়, এতে সময় নষ্ট হয় এবং বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হন। তাই আদালতের কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
আদালত প্রাঙ্গণের পরিবেশ নিয়েও কড়া নির্দেশনা দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, আইনজীবী ও মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষ ছাড়া কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে। আদালত এলাকায় চা, বাদাম বা ডাব বিক্রেতা ও হকারদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে আইনজীবীদের নির্ধারিত ড্রেসকোড মানা হচ্ছে কি না, সেদিকেও বিচারকদের নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, অধস্তন আদালতের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিচারিক কার্যক্রম চলে। মাঝখানে দুপুরের খাবার ও নামাজের জন্য বিরতি রাখা হয়।
মন্তব্য করুন

