

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের সময় ফ্রিজে রাখা মাছ, মাংস ও পচনশীল খাবার ভালো রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যা খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু ছড়াতে সাহায্য করে। তবে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস ও সঠিক সতর্কতা মেনে চললে বিদ্যুৎ না থাকলেও খাবার বেশ কিছুক্ষণ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ফ্রিজের দরজা যথাসম্ভব বন্ধ রাখা। অপ্রয়োজনে বারবার ফ্রিজ খুললে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে গিয়ে বাইরের উষ্ণ বাতাস প্রবেশ করে, ফলে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়।
এছাড়া ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজ যদি খাবারে পূর্ণ থাকে, তবে তা খালি ফ্রিজের তুলনায় অনেক বেশি সময় ঠান্ডা ধরে রাখতে পারে। তবে ঠান্ডা বাতাস চলাচলের জন্য সামান্য খালি জায়গা রাখা প্রয়োজন।
দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের প্রস্তুতি হিসেবে আগে থেকেই কিছু বোতলে পানি ভরে বরফ বানিয়ে রাখা বা আইস প্যাক জমাট বাঁধিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। জরুরি মুহূর্তে এই বরফের প্যাকগুলো খাবারের কাছাকাছি রাখলে তাপমাত্রা দীর্ঘদিন কম থাকে।
কাঁচা মাছ ও মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাড়তি সচেতনতা জরুরি। এগুলো সবসময় ভালো করে প্যাক করে আলাদা পাত্রে রাখা উচিত, যাতে গলে যাওয়া পানি অন্য কোনো খাবারে না পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকলে খাবার গলতে শুরু করলে এই তরল থেকে জীবাণু অন্যান্য খাবারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিদ্যুৎ আসার পর খাবারের নিরাপদতা যাচাই করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু গন্ধ বা রং দেখে খাবার ভালো আছে কি না তা সবসময় বোঝা যায় না। খাবার যদি পুরোপুরি গলে গিয়ে দীর্ঘ সময় উষ্ণ তাপমাত্রায় থাকে, তবে তা পুনরায় ডিপ ফ্রিজে জমিয়ে না রেখে ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।
সবশেষে, খাবার অপচয় রোধ করার চেয়ে পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরপরই ব্যস্ত না হয়ে ফ্রিজ কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর খাবার বের করা ভালো। কোনো খাবার নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ থাকলেও খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি না নিয়ে তা ফেলে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

