

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠলেও, অসাবধানতাবশত ইনস্টল করা কিছু অ্যাপ ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ। গুগল প্লে-স্টোর কিংবা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে থাকা সব অ্যাপই যে নিরাপদ, এমন ধারণা ভুল বলে প্রমাণ করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি বেশ কিছু ক্ষতিকর অ্যাপের তালিকা প্রকাশ করে সেগুলো দ্রুত ফোন থেকে সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যাকাররা অনেক সময় ছদ্মনামে প্লে-স্টোরে এমন কিছু অ্যাপ ছড়িয়ে দেয়, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে নিরীহ মনে হতে পারে। এসব অ্যাপের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর অজান্তেই ডিভাইসে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানো এবং ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া।
ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপের তালিকায় যা রয়েছে
তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির অ্যাপ, যা বর্তমানে সাইবার অপরাধীদের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে:
ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাপ: ‘সেক্স ক্রিপ্টোকারেন্সি’ নামক একটি অ্যাপ ইতিমধ্যে ১০ হাজারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। এটি দেখতে সাধারণ লেনদেন অ্যাপের মতো হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর ম্যালওয়্যার।
টিকটকের নকল সংস্করণ: জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম টিকটকের ক্লোন বা নকল ভার্সন ব্যবহারকারীদের ব্যাংক ও অনলাইন লেনদেনের তথ্য চুরির প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।
স্টিকার ও ফিল্টার অ্যাপ: হোয়াটসঅ্যাপ স্টিকার মেকার এবং বিভিন্ন আর্ট ফিল্টার অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও এবং লোকেশন বেহাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
কিউআর কোড ও জিপিএস ফাইন্ডার: স্মার্ট কিউআর ক্রিয়েটর এবং জিপিএস লোকেশন ফাইন্ডারের মতো উপযোগিতামূলক অ্যাপের মাধ্যমেও ফোনে আড়ি পাতছে হ্যাকাররা।
যেভাবে নিরাপদ থাকবেন
যেকোনো নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার আগে ব্যবহারকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা। তাঁদের মতে, কেবল অ্যাপের নাম দেখে প্রলুব্ধ হওয়া চলবে না।
১. উৎস যাচাই: অ্যাপটি কোন প্রতিষ্ঠান বা ডেভেলপার তৈরি করেছে এবং তার অতীত রেকর্ড কেমন, তা যাচাই করে নিতে হবে।
২. রিভিউ ও রেটিং: অন্যান্য ব্যবহারকারীদের মন্তব্য ও অ্যাপটি কতবার ডাউনলোড করা হয়েছে, তা লক্ষ্য করা জরুরি।
৩. অপ্রয়োজনীয় পারমিশন: কোনো সাধারণ অ্যাপ যদি অপ্রাসঙ্গিকভাবে ফোনের গ্যালারি, মাইক্রোফোন বা কন্টাক্ট লিস্টের অ্যাক্সেস চায়, তবে তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাইবার দুনিয়ায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেবল সচেতনতাই হতে পারে প্রধান ঢাল। ফোনের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে যাওয়ার আগেই সন্দেহভাজন অ্যাপগুলো মুছে ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
