বুধবার
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহাকাশে কেন এআই ডেটা সেন্টার করতে চান ইলন মাস্ক

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
ইলন মাস্ক
expand
ইলন মাস্ক

আজকাল আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা যখন ইন্টারনেটে কোনো কিছু খুঁজি কিংবা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলি, তখন সেটি উত্তর দিতে কয়েক সেকেন্ড সময় নেয়। এই অল্প সময়ে চ্যাটজিপিটি পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে থাকা বিশাল এক ডেটা সেন্টার থেকে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে আনে। এমনকি আমরা যে চ্যাট করি, সেগুলোও সেখানেই জমা থাকে। সহজ করে বললে, ডেটা সেন্টার হলো হাজার হাজার কম্পিউটারে ঠাসা এমন এক বিশাল ঘর, যেখানে দিন-রাত আমাদের দেওয়া সব তথ্য জমা হচ্ছে আর প্রসেস হচ্ছে। তবে এবার এই বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোকে পৃথিবী থেকে মহাকাশে সরিয়ে নিয়ে যেতে চান ইলন মাস্ক। কিন্তু কেন?

ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা কোম্পানি এক্সএআই এখন একসঙ্গে কাজ করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, মহাকাশে দ্রুত স্যাটেলাইট ডেটা সেন্টার বসানো। বর্তমানে গুগল, মেটা কিংবা ওপেনএআইয়ের মতো বড় বড় টেক জায়ান্টদের মধ্যে এআই নিয়ে এক বিশাল লড়াই চলছে। এই প্রতিযোগিতায় সবাইকে ছাড়িয়ে যেতেই ইলন মাস্ক এই মাস্টারপ্ল্যান করেছেন। তিনি চাইছেন পৃথিবীর বদলে মহাকাশে শক্তিশালী ডেটা সেন্টার বসাতে, যা তাঁকে প্রযুক্তির এই যুদ্ধে অন্যদের চেয়ে অনেক ধাপ এগিয়ে রাখবে।

মহাকাশভিত্তিক এআই ডেটা সেন্টার আসলে কী মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারের এমন এক অত্যাধুনিক ধারণা, যা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি মূলত শত শত সৌরশক্তিচালিত স্যাটেলাইটের একটি নেটওয়ার্ক, যা পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বেড়াবে। বর্তমান সময়ে চ্যাটজিপিটি বা গ্রোকের মতো এআই সিস্টেমগুলো চালাতে প্রচুর কম্পিউটিং শক্তি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পৃথিবীতে এই বিশাল বিদ্যুৎ খরচ সামলানো দিন দিন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। এই সমস্যা মেটাতেই বিজ্ঞানীরা মহাকাশে ডেটা সেন্টার চালু করতে চাইছেন।

যেহেতু বায়ুমণ্ডলের বাইরে মহাকাশে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সূর্যের আলো পাওয়া যায়, ফলে অফুরন্ত শক্তির জোগান পাওয়া যাবে ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য। এ ছাড়া পৃথিবীতে ডেটা সেন্টারগুলোকে ঠান্ডা রাখতেই সবচেয়ে বেশি খরচ হয়। কিন্তু মহাকাশ এমনিতেই প্রচণ্ড ঠান্ডা হওয়ায় সেখানে আলাদা করে কোনো শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে না। এর ফলে এআইয়ের তথ্য প্রসেসিং আরও অনেক সাশ্রয়ী ও দক্ষ হয়ে উঠবে।

মহাকাশে ডেটা সেন্টার বসানো শুনতে সহজ মনে হলেও এতে রয়েছে বড় কিছু চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে বড় বাধা হলো, মহাকাশের ক্ষতিকর বিকিরণ, ভাসমান আবর্জনা এবং সেখানে গিয়ে যন্ত্রপাতি মেরামত করার সুযোগ না থাকা। এ ছাড়া রকেটে করে এত ভারী সরঞ্জাম পাঠানোর খরচও বিশাল।

২০২৭-২৮ সালের দিকে মহাকাশে ডেটা সেন্টার বসানোর ক্ষেত্রে ছোট আকারে এর প্রথম পরীক্ষা হতে পারে। সেই পরীক্ষা সফল হলে ও খরচ কম মনে হলে ২০৩০ সালের পর থেকে আকাশে হাজার হাজার স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ডেটা সেন্টার তৈরির কাজ শুরু হবে।

কেন ইলন মাস্ক এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে কাজ করতে চান ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও স্টারলিংক ইতিমধ্যেই হাজার হাজার স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়ে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে। তাই ভবিষ্যতে যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজ মহাকাশ থেকেই করতে হয়, তবে স্পেসএক্সের চেয়ে আদর্শ জায়গা আর নেই।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে মাস্ক বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, মহাকাশে সৌরশক্তি চালিত ডেটা সেন্টার তৈরি করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই মহাকাশ হবে এআই চালানোর সবচেয়ে সাশ্রয়ী জায়গা।

স্পেসএক্স এ বছর বড় ধরনের বিনিয়োগ পাওয়ার আশা করছে। এই আয়ের একটি বড় অংশ খরচ করা হবে মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার তৈরির বিশেষ স্যাটেলাইট বানানোর পেছনে। সহজ কথায়, মাস্ক মহাকাশকে এআইয়ের নতুন রাজধানী বানাতে চাইছেন।

মহাকাশের দখল নিতে মাস্কের প্রতিদ্বন্দ্বী কারা

মহাকাশে ডেটা সেন্টার তৈরির লড়াইয়ে ইলন মাস্ক একা নন। চীনসহ অ্যামাজন, গুগল ও এনভিডিয়ার মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এ প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস মনে করেন, ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে মহাকাশেই তৈরি হবে বিশাল সব ‘গিগাওয়াট ডেটা সেন্টার’। তাঁর মহাকাশ সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’ এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যা সরাসরি মহাকাশে তাপ বিকিরণ করবে এবং সূর্যের অফুরন্ত শক্তি ব্যবহার করবে।

এনভিডিয়া ইতিমধ্যেই মহাকাশে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এআই চিপ এইচ১০০(H100) পাঠিয়েছে। তাদের লক্ষ্য হাজার হাজার স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এক বিশাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

আর গুগল প্রজেক্ট সানক্যাচার নিয়ে কাজ করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে তারা মহাকাশে সৌরশক্তিচালিত বিশেষ এআই স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।

মহাকাশের এই প্রতিযোগিতায় চীনও পিছিয়ে নেই। দেশটির প্রধান মহাকাশ সংস্থা পাঁচ বছরের মধ্যে একটি বিশাল ‘স্পেস ক্লাউড’ তৈরির পরিকল্পনা করেছে। তাদের লক্ষ্য মহাকাশে এমন এক ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশাল তথ্যের চাপ সামলাতে পারবে।

সূত্র: রয়টার্স ও টাইমস

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X