বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চোখ কাঁপা অশুভ নয়, যে ভয়াবহ মস্তিষ্কের রোগের লক্ষণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

টিভির পর্দা ঝিলমিল করলে বা ছবি অনবরত কাঁপতে থাকলে যেমন দেখায়, ‘ডান্সিং আই’ বা ‘নিস্ট্যাগমাস’ রোগে আক্রান্ত মানুষদের চোখের পরিস্থিতি ঠিক তেমনই হয়। চোখ কাঁপলে অনেকে কুসংস্কারবশত শুভ-অশুভ মেনে বসে থাকেন।

তবে এটি চোখের সাধারণ কোনো কাঁপুনি নয়, বরং চোখের মণি অনিয়ন্ত্রিতভাবে অনবরত নাচতে বা লাফালাফি করতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘নিস্ট্যাগমাস’ বলা হয়।

এই রোগটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা না থাকলেও, বহু মানুষ নীরবে এই সমস্যায় ভুগছেন।

নিস্ট্যাগমাস হলো এমন একটি জটিল স্নায়বিক ব্যাধি। এতে চোখের মণি টানা ডানে-বামে, উপরে-নিচে কিংবা গোল হয়ে অনবরত ঘুরতে থাকে, যা ব্যক্তি নিজে থেকে কোনোভাবেই থামাতে পারেন না। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় তিনি চোখ ঘুরিয়ে কথা বলছেন বা মণি নাচছে।

মূল সমস্যাটি কিন্তু চোখের নয়, বরং মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের। আমাদের চোখের স্থিরতা ও শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের ‘সেরিবেলাম’, ‘ব্রেনস্টেম’ এবং কানের ভিতরের ‘ভেস্টিবুলার সিস্টেম’।

কোনো কারণে এই অংশগুলোতে প্রদাহ বা ক্ষতি হলে মস্তিষ্ক থেকে চোখে ভুল সংকেত পৌঁছায়। ফলে চোখের পেশিগুলো অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং মণি অনবরত নড়তে থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগটি প্রধানত দুই ধরণের হয়ে থাকে:

ইনফ্যান্টাইল নিস্ট্যাগমাস: এটি শিশুদের জন্মের প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই দেখা দেয়। বংশগত কারণ বা জন্মগতভাবে চোখের অপটিক স্নায়ুর গঠন সঠিক না হলে এটি হতে পারে। অনেক সময় অভিভাবকেরা এটিকে সাধারণ 'টেরা চোখ' ভেবে ভুল করেন।

অ্যাকোয়ার্ড নিস্ট্যাগমাস: এটি মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা দেয়। মাথায় বড় কোনো আঘাত, স্ট্রোক, ব্রেন টিউমার, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, কানের জটিল সমস্যা কিংবা শরীরে ভিটামিন বি-১২ এর তীব্র ঘাটতি হলে এই রোগ বাসা বাঁধতে পারে।

এই রোগ ধরা পড়লে শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এমআরআই স্ক্যান এবং আধুনিক আই-ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যে এটি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা যায়।

রোগটি রাতারাতি পুরোপুরি ভালো করার মতো কোনো জাদুকরী চিকিৎসা না থাকলেও, সঠিক লেন্স ব্যবহার করে মণির অস্বাভাবিক নড়াচড়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সমস্যা খুব বেশি জটিল রূপ নিলে চোখের পেশির কাঁপুনি কমাতে অস্ত্রোপচার বা সার্জারির পথও বেছে নেওয়া হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন