

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পর্যাপ্ত পানি পান করা সুস্থ জীবনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলেও, যেকোনো কিছুর মতো অতিরিক্ত পানি পানও বিপদের কারণ হতে পারে। আমাদের কাছে পানির মতো উপাদানকে ক্ষতিকর মনে না হলেও, স্বল্প সময়ে শরীরের চাহিদার চেয়ে বেশি পানি পান করলে দেখা দিতে পারে চরম স্বাস্থ্যঝাঁকি।
অতিরিক্ত পানি পানের মূল ঝুঁকি: হাইপোন্যাট্রেমিয়া
কম সময়ে মাত্রাতিরিক্ত পানি খেলে রক্তে সোডিয়ামের ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে হাইপোন্যাট্রেমিয়া বা ওয়াটার ইনটক্সিকেশন বলা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা (প্রায় ২০%-৩৫% রোগীর ক্ষেত্রে এটি ঘটে)। হৃদরোগ, লিভারের সমস্যা, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ কিংবা বমি ও ডায়রিয়ার কারণে তরল বজায় রাখার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হলে বা অতিরিক্ত পানি খেলে এটি ঘটে।
শরীরে এটি যেভাবে প্রভাব ফেলে
সোডিয়ামের কাজ হলো কোষের ভেতরে ও বাইরে তরলের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা। কিন্তু রক্তে সোডিয়াম কমে গেলে পানি কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং কোষগুলোকে ফুলিয়ে তোলে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের কোষ ফুলে উঠলে পরিস্থিতি দ্রুত জীবন-হুমকিতে রূপ নিতে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণসমূহ
অতিরিক্ত পানি পানের প্রভাব হুট করে তীব্র না হয়ে ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। শুরুতে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়:
গুরুতর লক্ষণ ও জটিলতা
প্রাথমিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পানি পান অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে:
দৈনন্দিন সাধারণ জীবনযাত্রায় এত বেশি পানি পান করা বা ওয়াটার ইনটক্সিকেশনে আক্রান্ত হওয়া বেশ বিরল। তবুও সচেতনতার জন্য পানির সঠিক পরিমাণ বুঝে পান করা এবং নিজের শরীরের সিগন্যাল বা সংকেতকে প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।


