

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দিনের ব্যস্ততায় হয়তো প্রাক্তন সম্পর্কের কথা তেমন একটা মনে পড়ে না। কিন্তু রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। চারপাশ যখন নীরব, তখনই পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি, কিছু কথা কিংবা একসঙ্গে কাটানো সময় হঠাৎ মনে পড়ে যায়। কেউ কেউ তখন পুরোনো ছবি দেখেন, চ্যাট পড়েন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাক্তনের খোঁজ নিতে শুরু করেন। ফলাফল একটি নির্ঘুম রাত!
সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর এমন অনুভূতি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে অতীতের স্মৃতি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভাবতে থাকলে মানসিক অস্থিরতার পাশাপাশি ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দও ব্যাহত হতে পারে।
রাতে প্রাক্তনের কথাই বেশি মনে পড়ে কেন?
দিনের সময় নানা কাজ ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে মন ব্যস্ত থাকে। ফলে পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে ভাবার সুযোগ কম থাকে। রাতে কাজের চাপ কমে গেলে মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকে। তখনই অতীতের স্মৃতিগুলো বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে সম্পর্কের অসমাপ্ত বিষয়, না বলা কথা বা ‘আরেকটু ভিন্নভাবে পরিস্থিতি সামলালে কী হতো’ এ ধরনের চিন্তা বারবার ফিরে আসতে পারে। একই বিষয় নিয়ে ঘুরেফিরে ভাবতে থাকাকে অনেক সময় অতিরিক্ত চিন্তার প্রবণতা বলা হয়। এটি ঘুমের প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
পুরোনো ছবি ও চ্যাট কেন এড়িয়ে চলা ভালো?
ঘুমানোর আগে প্রাক্তনের ছবি, পুরোনো বার্তা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখা অতীতের আবেগকে আবার উসকে দিতে পারে। একটি ছবি বা পুরোনো কথোপকথন থেকেই শুরু হতে পারে দীর্ঘ সময়ের স্মৃতিচারণ।
ফলে শরীর বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হলেও মন সক্রিয় থাকে। ঘুমাতে বেশি সময় লাগে এবং পরদিন ঘুম পূর্ণ না হওয়ার অনুভূতিও হতে পারে।
ঘুমের সমস্যা হলে কী হতে পারে?
এক রাত ঘুম কম হওয়া নিয়ে সাধারণত উদ্বেগের কারণ নেই। কিন্তু নিয়মিতভাবে ঘুমের সমস্যা হলে দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়তে পারে। যেমন,
দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টি দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা না করাই ভালো।
ঘুমানোর আগে কী করতে পারেন?
প্রাক্তনের কথা মনে পড়লে জোর করে স্মৃতিকে মুছে ফেলার চেষ্টা না করে নিজের মনোযোগ অন্যদিকে নেওয়া যেতে পারে। মনে রাখতে পারেন, একটি স্মৃতি ফিরে আসা মানেই সেই সম্পর্কের কাছে ফিরে যেতে হবে—এমন নয়।
ঘুমের সময় ঠিক রাখুন
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও সকালে ওঠার অভ্যাস করুন। ছুটির দিনেও এই সময়সূচি যতটা সম্ভব ধরে রাখলে ঘুমের অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে।
দিনের সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
শারীরিক ব্যায়াম, হাঁটা, কাজ, পড়াশোনা বা পছন্দের কোনো সৃজনশীল কাজে সময় দেওয়া মনকে ইতিবাচকভাবে ব্যস্ত রাখতে পারে। তবে ঘুমের ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।
অতীতকে মেনে নেওয়া জরুরি
সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর পুরোনো স্মৃতি মনে পড়বে—এটাই স্বাভাবিক। তাই প্রতিবার প্রাক্তনের কথা মনে পড়লে নিজেকে দুর্বল ভাবার প্রয়োজন নেই। বরং সম্পর্কটি কেন শেষ হয়েছে এবং এখন নিজের জীবনে কী চান, সেদিকে ধীরে ধীরে মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য তৈরি করাও জরুরি। পুরোনো ছবি, চ্যাট কিংবা স্মৃতির মধ্যে বারবার ফিরে যাওয়ার বদলে নিজের বর্তমান জীবন, সম্পর্ক, কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?
প্রাক্তনের কথা মনে পড়া স্বাভাবিক হলেও যদি দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা চলতে থাকে, দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়, মন খারাপ বা উদ্বেগ বাড়তে থাকে কিংবা নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে।
প্রয়োজনে কাছের মানুষদের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়াও সহায়ক হতে পারে। সব অনুভূতি একা সামলানোর চেষ্টা না করে প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়।
একটি সম্পর্ক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারে, কিন্তু সেটিই পুরো জীবন নয়। পুরোনো স্মৃতি হয়তো পুরোপুরি মুছে যাবে না। তবে সময়ের সঙ্গে সেই স্মৃতির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক বদলানো সম্ভব। অতীতকে মেনে নিয়ে বর্তমানের দিকে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাসই ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনতে পারে মানসিক স্বস্তি এবং রাতের স্বাভাবিক ঘুম।

