মঙ্গলবার
২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘভাঙা বৃষ্টি কতটা ভয়ংকর, বাংলাদেশ কি ঝুঁকিতে?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে ‘এল নিনো’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে যে জলবায়ুগত পরিবর্তন তৈরি হয়, সেটিই ‘এল নিনো’ নামে পরিচিত। কয়েক বছর পরপর দেখা দেওয়া এই প্রাকৃতিক ঘটনা বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে থাকে।

আবহাওয়া বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, এবার শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মানবিক সংকটও তীব্র হতে পারে।

বাংলাদেশেও চলতি মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, এর পেছনে এল নিনোর কোনো প্রভাব রয়েছে কি না।

যদিও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে সরাসরি এল নিনোর প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা এখনই সম্ভব নয়।

এদিকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘মেঘভাঙা বৃষ্টি’ বা ক্লাউডবার্স্ট। ভারতের দিকে অস্বাভাবিক ঘন মেঘমালার স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এমন পরিস্থিতির ঝুঁকি নেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খুব ছোট কোনো এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হলে তাকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা হয়। সাধারণত এক ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি হলে সেটিকে ক্লাউডবার্স্ট হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের বৃষ্টিতে স্বল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসে, যা আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, উষ্ণ ও ঠান্ডা বায়ুর সংঘর্ষে ঘন মেঘ তৈরি হয়। পাহাড়ি এলাকায় আর্দ্র বাতাস দ্রুত ওপরে উঠে মেঘের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প জমা হতে থাকে। একপর্যায়ে মেঘ অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে না পেরে হঠাৎ প্রবল বর্ষণের সৃষ্টি করে। পাহাড়ি অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া আরও বেশি সক্রিয় হয়।

মেঘভাঙা বৃষ্টির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আকস্মিক বন্যা। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির পানি, কাদা ও পাথর একসঙ্গে নেমে এসে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। অতীতে ভারতের উত্তরাখণ্ড, সিকিম ও লাদাখে এমন ঘটনার কারণে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। গত বছর উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী এলাকার ধরালি গ্রামেও মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লাউডবার্স্টের আগাম পূর্বাভাস দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। কারণ এটি খুব ছোট এলাকায় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিতে পারলেও নির্দিষ্টভাবে কোথায় মেঘভাঙা বৃষ্টি হবে, তা আগে থেকে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে এ ধরনের ঘটনার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। মৌসুমি বায়ু প্রচুর আর্দ্রতা বহন করে নিয়ে আসে এবং সংকীর্ণ পাহাড়ি উপত্যকায় পানি দ্রুত বের হতে না পারায় সেখানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনও এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে মাটি পানি শোষণের সক্ষমতা হারাচ্ছে এবং দুর্যোগের ঝুঁকি আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন