

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মেরিয়েম উজেরলির তারকা হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটি কোনো নাটকীয় নাটকের চেয়ে কম নয়। তুরস্কের বিখ্যাত ধারাবাহিক ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেঞ্চুরি (সুলতান সুলেমান)’-এ হুররেম সুলতানের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তবে সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর ঠিক আগের অধ্যায়টি ছিল চরম অনিশ্চয়তা ও জীবনসংগ্রামের।
ছয় বছরের একটি দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক ভাঙার বেদনা নিয়ে যখন মেরিয়েম দিশেহারা, ঠিক তখনই তার জীবন থমকে দাঁড়িয়েছিল। হাতে কোনো কাজ ছিল না, এমনকি আগামী মাসের বাড়িভাড়া কীভাবে শোধ করবেন, তা-ও তিনি জানতেন না। জীবনের এই কঠিন মোড়ে শুধু টিকে থাকার তাগিদে একটি কাজের তীব্র প্রয়োজন ছিল তার।
ঠিক সেই সময়েই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। থিয়েটারে কাজ করার সূত্রে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে ইস্তাম্বুলের এক বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে মেরিয়েমের অভিনয়ের ভিডিও পৌঁছায়। তারা একটি বড় প্রজেক্টের প্রধান চরিত্রের জন্য নতুন মুখ খুঁজছিল।
সেখান থেকেই অডিশনের ডাক পান মেরিয়েম। তবে এত বড় চরিত্রে সুযোগ পাওয়ার কোনো আকাশকুসুম স্বপ্ন তিনি দেখেননি, তার প্রত্যাশা ছিল খুবই সাধারণ। অন্তত যেকোনো একটি ছোট পার্শ্বচরিত্র পেলেই যেন মাসিক বাড়িভাড়াটা জোগাড় হয়ে যায়- এটাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
কিন্তু সেই একটি অডিশনাই তার জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। নির্মাতারা হুররেম সুলতানের কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্যই বেছে নেন তাঁকে। প্রথম পর্বের চিত্রনাট্য পড়ার পরেই চরিত্রটির মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা মেরিয়েমকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
নিজের বাস্তব জীবনের কষ্ট ভুলে তিনি হুররেম চরিত্রের ভেতরে পুরোপুরি বিলীন হয়ে যান। মেরিয়েমের ভাষায়, হুররেম চরিত্রটি ছিল যেন ‘বিস্ফোরণের অপেক্ষায় থাকা এক বোমার মতো’।
পরবর্তী তিন বছর ধরে ক্ষমতা, ভালোবাসা, আগ্রাসন ও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তোলেন তিনি। নির্মাতারাও তখন বুঝতে পারেননি ধারাবাহিকটি কতটা জনপ্রিয় হবে, তা ছিল কেবলই একদল স্বপ্নবাজ মানুষের প্রচেষ্টা।
কিন্তু নিজের কাজের প্রতি মেরিয়েমের একাগ্রতা ও নিখুঁত অভিনয় তাকে এনে দেয় ইতিহাসগড়া সাফল্য।

