মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাইকেল জ্যাকসনকে দেওয়া পরামর্শেই শেষ হয়েছিলো ম্যাকার্টনি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
পল ম্যাকার্টনি ও মাইকেল জ্যাকসন
expand
পল ম্যাকার্টনি ও মাইকেল জ্যাকসন

১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে ব্যান্ড ‘উইংস’-এর পল ম্যাকার্টনি ও ‘কিং অব পপ’ মাইকেল জ্যাকসনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ১৯৮২ সালে একসঙ্গে ‘দ্য গার্ল ইজ মাইন’ গানটি করার সময় ম্যাকার্টনি বন্ধুকে একটি দরকারী পরামর্শ দেন। তিনি জানান, শুধু গান গেলেই হবে না, মিউজিক পাবলিশিং বা গানের স্বত্বে বিনিয়োগ করাটা কতটা লাভজনক।

জ্যাকসন কথাটা খুব গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং হেসে ম্যাকার্টনিকে বলেন, ‘একদিন আমি তোমার গানগুলো কিনে নেব।’ ম্যাকার্টনি ভেবেছিলেন জ্যাকসন নিছক মজা করছেন। কিন্তু ইতিহাস বলে, জ্যাকসন মোটেও রসিকতা করেননি। বিটলসের গান হাতছাড়ার শুরু

বিটলসের গানের মালিকানার জটিলতা শুরু ১৯৬৩ সালে, যখন ‘নর্দান সংস’ নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। শুরুতে ম্যাকার্টনি ও জন লেননের এতে ২০ শতাংশ করে মালিকানা থাকলেও ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক শেয়ারে রূপ নিলে তা ১৫ শতাংশে নেমে আসে।

পরবর্তীতে বিটলস সদস্যদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্তাদের দূরত্ব তৈরি হয়। ১৯৬৯ সালে তাঁদের না জানিয়েই সমস্ত শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয় ‘এটিভি মিউজিক’-এর কাছে। ফলে নিজেদের লেখা কালজয়ী গানগুলোর প্রকাশনাস্বত্ব পুরোপুরি হারান লেনন ও ম্যাকার্টনি।

১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক কেনাকাটা

১৯৮৫ সালে এটিভি মিউজিক তাদের ক্যাটালগ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়, যার মধ্যে লেনন-ম্যাকার্টনির লেখা বিটলসের দুই শতাধিক গানসহ প্রায় চার হাজার গান ছিল। ম্যাকার্টনি গানগুলো ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করলেও অর্থের অঙ্কে পেরে ওঠেননি।

১৯৮৫ সালের ১০ আগস্ট মাইকেল জ্যাকসন ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে পুরো এটিভি ক্যাটালগটি কিনে নেন, যা ১৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এটি ছিল পপ সংগীতের ইতিহাসের অন্যতম দূরদর্শী ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। বন্ধুত্বে ফাটল

যে বন্ধুকে ব্যবসায়িক পরামর্শ দিয়েছিলেন, তার কাছেই নিজের লেখা গানের স্বত্ব হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ম্যাকার্টনি। জ্যাকসনের এই পদক্ষেপে ম্যাকার্টনি ও জর্জ হ্যারিসন গভীর কষ্ট পান।

ম্যাকার্টনি পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বন্ধু হয়ে এভাবে পায়ের নিচের মাটি কেটে নেওয়া তাঁর কাছে অনৈতিক মনে হয়েছে।

ম্যাকার্টনি পরে জ্যাকসনের কাছে গানগুলোর জন্য কিছু বাড়তি রয়্যালটি চেয়েছিলেন। কিন্তু জ্যাকসনের স্পষ্ট জবাব ছিল- ‘পল, এটা শুধুই ব্যবসা।’ এই ঘটনার পর তাদের বন্ধুত্বের ইতি ঘটে।

শত কোটি ডলারের সম্পদে রূপান্তর

১৯৯৫ সাল: জ্যাকসন এটিভিকে সনি মিউজিকের সঙ্গে একীভূত করে ‘সনি/এটিভি’ গঠন করেন এবং ৫০-৫০ মালিকানা ভাগ করে নেন।

২০১৬ সাল: জ্যাকসনের মৃত্যুর পর তার এস্টেট সনি/এটিভিতে থাকা তাদের ৫০ শতাংশ মালিকানা সনির কাছে প্রায় ৭৫ কোটি ডলারে বিক্রি করে দেয়।

২০২৪ সাল: সনি মিউজিক জ্যাকসনের মিউজিক ক্যাটালগের বাকি অংশ ও অন্যান্য সম্পত্তি প্রায় ৬০ কোটি ডলারে কিনে নেয়।

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৬ সালের কপিরাইট আইনের সুযোগ নিয়ে ২০১৭ সালে এক গোপন সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের কিছু গানের স্বত্ব ফিরে পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ম্যাকার্টনি।

তবে জ্যাকসনের সেই ১৯৮৫ সালের বিনিয়োগের মূল্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শত কোটি ডলারের ঘরে গিয়ে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে মাইকেল জ্যাকসনের ওপর নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ মুক্তির পর লুমিনেটের তথ্য অনুযায়ী তার গানের স্ট্রিমিং ৪৭২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

ম্যাকার্টনিকে দেওয়া সেই ছোট্ট পরামর্শই মাইকেল জ্যাকসনকেসংগীত জগতের অন্যতম ধনী ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন