

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার নিরিখে আসনভিত্তিক ঝুঁকি চিহ্নিত ও কিছু আসনের তালিকা করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা। এতে পাবনা, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালীসহ ১০ জেলার ১৩টি আসনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এসব আসনে থাকবে বাড়তি নজরদারি। নির্বিঘ্ন পরিবেশ বজায় রাখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা জানিয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪৫টি নির্বাচনী আসনকে মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় রাখছে পুলিশ।
তপশিল ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সহিংসতার সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের হিসাবমতে, ৫০টি আসনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বাকি আসনে উল্লেখ করার মতো কোনো সংঘাত হয়নি। সেখানে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ।
পুলিশের তথ্যমতে, ১০ জেলার ১৩টি আসনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সেখানে বিশেষ নজর থাকবে। এ আসনগুলো হলো পাবনা-১ ও ৩। এ ছাড়া খুলনা-৫, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৪, শেরপুর-৩, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা–৭, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-৬ ও চট্টগ্রাম-১৫। পুলিশের তালিকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ এসব আসনের কয়েকটিতে এরই মধ্যে একাধিক দফায় নির্বাচনী সংঘাত হয়েছে।
পুলিশের হিসাবে সংঘাতের আশঙ্কা থেকে মধ্যম ঝুঁকিতে যেসব আসন তালিকায় রয়েছে তা হলো– পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও-৩, লালমনিরহাট-১, রংপুর-৩, রংপুর-৪, গাইবান্ধা-৫, বগুড়া-২, বগুড়া-৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-১, রাজশাহী-২, নাটোর-১, সিরাজগঞ্জ-৪, কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহ-৩, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২, খুলনা-৪, সাতক্ষীরা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-২, ভোলা-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-২, টাঙ্গাইল-৮, ময়মনসিংহ-১০, ময়মনসিংহ-১১, নেত্রকোনা-৩, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-১০, নারায়ণগঞ্জ-৩, ফরিদপুর-৪, সুনামগঞ্জ-২, মৌলভীবাজার-৩, কুমিল্লা-১১, চাঁদপুর-৪, নোয়াখালী-২, চট্টগ্রাম-১৪ ও চট্টগ্রাম-১৬।
পুলিশ বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে যেসব আসনের তালিকা করা হয়েছে, সেখানকার সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও ঘাটতি থাকলে তা মাঠ প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। প্রশাসনের যারা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের মধ্যে সমন্বয় বৈঠক হচ্ছে। মাঠ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিমুক্ত তালিকা প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করবে পুলিশ। অতি ঝুঁকির তালিকায় নতুন আসনের নাম যুক্ত হতে পারে। আবার অনেক আসনে সহিংসতার ঝুঁকির মাত্রা কমতে পারে।
জানুয়ারি মাসে মোট ৬৪টি নির্বাচনী সহিংসতার তথ্য দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। এসব সহিংসতায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে; আহত ৫০৯ জন। আর ডিসেম্বর মাসে সারাদেশে সাতটি সহিংসতায় একজনের প্রাণহানির পাশাপাশি ২৭ জন আহত হয়েছিলেন। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৫১টি আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ হয়েছে। এসব আসন হলো– পঞ্চগড়-১, লালমনিরহাট-১, চুয়াডাঙ্গা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-৩, ভোলা-১, বরিশাল-৩, টাঙ্গাইল-৮, শেরপুর-৩, নেত্রকোনা-৩, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, কুমিল্লা-১১, যশোর-৫, কুমিল্লা-৯, বাগেরহাট-১, খুলনা-৩, শরীয়তপুর-১, সিরাজগঞ্জ-১, ঢাকা-১২, ভোলা-৩, চট্টগ্রাম-২, ফেনী-৩, ফেনী-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, লক্ষ্মীপুর-৩, ময়মনসিংহ-১, বগুড়া-৫, কিশোরগঞ্জ-৪, চট্টগ্রাম-১১, বরিশাল-১, মাদারীপুর-৩, ভোলা-২, ময়মনসিংহ-৯, লক্ষ্মীপুর-২, টাঙ্গাইল-১, খুলনা-২, সিরাজগঞ্জ-২, জামালপুর-৪, শরীয়পুর-২, নারায়ণগঞ্জ-২, ঢাকা-৩, ঝালকাঠি-১, চট্টগ্রাম-১, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-২, ঢাকা-৪ ও ভোলা-৪।
পুলিশ সূত্র বলছে, যেসব কেন্দ্রে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ভিডিও ধারণ করা হবে। কোনো সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের আগেই অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ডিএমপির অর্থায়নে বসানো হচ্ছে আরও ৬০০ ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি)।
রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আট লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী এক লাখ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনী তিন হাজার ৭৩০, পুলিশ এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড তিন হাজার ৫৮৫, র্যাব সাত হাজার ৭০০ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন।
মন্তব্য করুন

