রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে শিবির নেতাকে মারধর, ক্যাম্পাসে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
ইবিতে শিবির নেতাকে ছাত্রদল কর্মীর মারধরে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
expand

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারিকে চড় মারাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি জুহায়ের হোসেনকে চড় মারেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য আলীনূর রহমান। জুহায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং আলীনূর আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে শহীদ জিয়া হলে আসেন। সেখানে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীও উপস্থিত হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে আলীনূর হলটির ২১৭ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন।

পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য জিয়া হলের প্রভোস্টের কক্ষে আলোচনায় বসেন ভুক্তভোগী জুহায়েরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিম রেজা, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন ও সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। এ সময় কক্ষের বাইরে শিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির নেতৃত্বে আলীনূরকে আনতে গেলে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় তাকে সেখান থেকে বের করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, আলীনূরকে উপস্থিত করতে না পারা এবং শিবিরের নেতাকর্মীরা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ আলোচনা থেকে উঠে চলে যান। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির নেতৃত্বে তাকে হল থেকে উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা আলীনূরের ওপর চড়াও হন এবং প্রক্টরের গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করেন।

এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রামদাসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় ছাত্রদল প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টরিয়াল বডির পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি জুহায়ের হোসেন বলেন, “আমি ক্লাস শেষে অনুষদে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ আলীনূর এসে আমাকে থাপ্পড় মারেন এবং গালাগালি করেন। পরে কেন আমাকে মারলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই মেরেছি। আপনি কী করতে পারেন করেন।’ আমি তাঁর স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করছি। পাশাপাশি তিনি হলের অবৈধ শিক্ষার্থী। তাঁকে হল থেকে বের করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।”

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আলীনূর রহমান বলেন, “আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেন। এ সময় আমি তাকে থাপ্পড় দিই। তবে তার সঙ্গে আমার আগে কোনো সমস্যা ছিল না।”

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা আলোচনায় বসেছিলাম। কিন্তু ছাত্রদল কর্মী রাহী আমাদের নেতাকর্মীদের গালাগালি করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ছাত্রদলের নেতারা সমঝোতার আলোচনা থেকে বেরিয়ে যান। তারা মূলত বিচার চান না।”

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদ বলেন, “আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank