

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়াকে আরও শিক্ষার্থী-বান্ধব ও স্বচ্ছ করার দাবিতে দুই দফা দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দুটি দাবি হলো—সাবজেক্ট চয়েজে আরোপিত ফি সম্পূর্ণ বাতিল এবং বিভাগভিত্তিক বিগত বছরের ভর্তি মেরিট পজিশনের তথ্য প্রকাশ।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সাবজেক্ট চয়েজ দিতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫০০ টাকা করে ফি দিতে হয়, যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। ইতোমধ্যে আবেদন ফি, প্রাথমিক ভর্তি ফি ও চূড়ান্ত ভর্তি ফি মিলিয়ে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় করতে হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত এই ফি যুক্ত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দক্রম দিতে পারেন না। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা ভর্তির সুযোগ হারান।
শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত পেছনের মেরিট অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থীরা সাবজেক্ট চয়েজের জন্য ফি প্রদান করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান না। এতে একদিকে যেমন তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই অনিশ্চয়তার মধ্যে এই ফি আরোপ শিক্ষার্থী-বান্ধব নয় বলে দাবি তাদের।
দ্বিতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভাগভিত্তিক বিগত বছরের ভর্তি মেরিট পজিশনের তথ্য প্রকাশ করা হলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বাস্তবসম্মত ধারণা পাবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে এবং পুরো ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে।
নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, “২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় আমার ভালো মেরিট থাকা সত্ত্বেও সাবজেক্ট চয়েজের ফি জোগাড় করতে না পারায় আমি ভর্তি হতে পারিনি। আর্থিক সমস্যার কারণে এমন সুযোগ হারানো কষ্টের। এ বছরও অনেক শিক্ষার্থী একই সমস্যার কথা বলছে।”
ময়মনসিংহের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, “আমরা যারা এবার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছি, তাদের জন্য সাবজেক্ট চয়েজের ফি বড় একটা চিন্তার বিষয়। পরিবার থেকে সীমিত বাজেট থাকে, তাই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে চয়েজ দিতে পারি না। আবার কোন বিভাগে কত মেরিটে ভর্তি হয়, সে তথ্য না থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। যদি এসব তথ্য আগে থেকে জানা যেত এবং অতিরিক্ত ফি না থাকত, তাহলে আমরা আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম।”
কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মো. রাকিব হোসেন বলেন, “আমার পরিবার খুবই নিম্ন আয়ের। বাবা দিনমজুর, সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। অনেক কষ্ট করে কোচিং আর ভর্তি পরীক্ষার খরচ জোগাড় করেছি। এখন সাবজেক্ট চয়েজ দিতে গেলে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা করে টাকা লাগছে, যা আমার পক্ষে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে আমি চাইলেও সব জায়গায় আবেদন করতে পারছি না। যদি এই ফি বাতিল করা হতো, তাহলে আমার মতো অনেক গরিব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগটা একটু সহজ হতো।”
এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা যেহেতু কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয় এবং এ বছর এর দায়িত্বে রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, তাই এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মন্তব্য করুন