মঙ্গলবার
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ণিল আয়োজনে জবিতে নববর্ষ উদযাপন 

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
বর্ণিল আয়োজনে জবিতে নববর্ষ উদযাপন 
expand
বর্ণিল আয়োজনে জবিতে নববর্ষ উদযাপন 

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ উৎসব পালিত হয়। ‘নববর্ষের আবাহন ঐক্য, শান্তি, উত্তরণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের সদস্যদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

প্রথম দিনের কর্মসূচি শুরু হয় সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় পার্শ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বৈশাখী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে সকাল ৯টায় উপাচার্যের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। চারুকলা অনুষদের আয়োজনে শোভাযাত্রায় শান্তির প্রতীক পায়রা, পাখি, চরকি, সূর্যমুখী ও ফড়িংসহ নান্দনিক উপকরণ প্রদর্শিত হয়।

শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণ ও পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল মাঠে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সমাহার দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। এসময় উপাচার্য ও সংসদ সদস্য একসঙ্গে নাগরদোলায় চড়ে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন, যা উপস্থিত সবার মাঝে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।

সকাল ১১টায় বিজ্ঞান ভবন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং লালবাগ বিভাগের ডিসি তালেবুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য জনাব হামিদুর রহমান হামিদ সকলকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বেদখলকৃত হলসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে তাঁর সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ সকল সমস্যা সমাধানে সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রক্রিয়াগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা শিক্ষাঙ্গনে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখে এবং আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো ভুল পথে পরিচালিত না হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, উপস্থিত দুইজন সংসদ সদস্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অংশ হওয়ায় সবাই গর্বিত এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাশিত নেতৃত্ব নির্বাচন করেছে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যে অঙ্গীকার, তার ধারাবাহিকতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও নতুন উদ্যমে ‘টিম জগন্নাথ’ হিসেবে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলকৃত হলসমূহ পুনরুদ্ধারে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সফলতা অর্জন সম্ভব হবে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ইঞ্চি জায়গাও কোনো দখলদারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না এবং বেদখলকৃত হলগুলো প্রক্রিয়াগতভাবে পুনরুদ্ধার করা হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গঠনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সকলে অংশীদার হিসেবে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রণীত ৩১ দফা কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। এ প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ছাত্র সংগঠনসমূহকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন তাঁর বক্তব্যে সকলকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই সদস্যরা সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পলিসি মেকিং প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নিজেদের সম্পৃক্ত করবেন এবং এভাবে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী ও চ্যানেল আই-এর উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন