মঙ্গলবার
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাবিতে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ও শিশির মনিরকে লাল কার্ড প্রদর্শন

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গণভোট-বিষয়ক একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনিরকে আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে একদল শিক্ষার্থী ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেছেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবন হয়ে পরিবহন মার্কেট এলাকায় গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।

জানা যায়, রাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেমিনার শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্যারিস রোডে জড়ো হন। এ সময় তারা আমন্ত্রিত দুই অতিথিকে প্রতীকীভাবে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন এবং ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে অতিথিরা মঞ্চের দিকে অগ্রসর হলে স্লোগানের তীব্রতা আরও বাড়ে।

প্রতিবাদকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘টাকলা ফুয়াদ বিজয় দিবস মানে না’, ‘আবরারের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘খুনিদের আইনজীবী চাই না’, ‘খুনিদের পক্ষ নেওয়া লজ্জার’—ইত্যাদি।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, “ফুটবলে নিয়ম ভঙ্গ করলে যেমন লাল কার্ড দেখানো হয়, তেমনি অন্যায় ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে এই কর্মসূচি। আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় শিশির মনিরের ভূমিকা এবং ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিভিন্ন বক্তব্য আমাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।”

একই ধরনের মন্তব্য করেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য জাতির জন্য লজ্জাজনক।”

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাম্পাসে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন