

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুবি)শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৫) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম, সহকারী প্রক্টরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
সমাবেশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আব্দুল মমিন বলেন, "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন কর্মচারীর হাতে বিভাগীয় প্রধান হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নিন্দনীয়। পবিত্র রমজান মাসে এমন নির্মম ঘটনা আমাদের সবাইকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, বদলি-সংক্রান্ত অসন্তোষ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, এটি দেশের আইন-শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজ এবং ঘটনার পেছনে কার কী দায় রয়েছে তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনতে হবে।"
সহকারী প্রক্টর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, "এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আমাদের ভাবিয়ে তোলে আগামী দিনের বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ কতটা নিরাপদ থাকবে? বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়মের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিরা এসব পেশায় প্রবেশ করছে, যার ফলে অপেশাদার আচরণ ও নানা সংকট তৈরি হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "জুলাই আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল শিক্ষাঙ্গনের সংস্কার। কিন্তু সেই সংস্কার বাস্তবায়িত না হওয়ায় আমরা বারবার এমন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে তিনি শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, "আজ শিক্ষক হত্যা হয়েছে, কাল কর্মকর্তা, পরশু কর্মচারী, এরপর শিক্ষার্থী এভাবে চলতে পারে না। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক; আমরা চাই নিরাপদে কাজ শেষে ঘরে ফিরতে। কিন্তু যদি সেই নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে স্বাধীনতার অর্থ কী? তিনি বলেন, আসমা সাদিয়া রুনা তার চার সন্তান রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন এটি শুধু একজন শিক্ষকের মৃত্যু নয়, বরং দেশের শিক্ষাঙ্গনের জন্য বড় একটি আঘাত। তিনি দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।"
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কার্যালয়ে একই বিভাগের কর্মকর্তা ফজলুর রহমান ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। পরে তিনি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
মন্তব্য করুন