

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস বেশ স্বাস্থ্যবান্ধব হিসেবে পরিচিত। এখানকার পানির উচ্চ গুণগত মান থাকায় অধিকাংশ আবাসিক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন যাবৎ কোনোপ্রকার ফিল্টার করা ছাড়াই সরাসরি সাপ্লাইয়ের পানি পান করে আসছে। তবে সম্প্রতি এক পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলের পানিতে সহনীয় মাত্রার ২২০ গুণ অতিরিক্ত আয়রণ শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যা শিক্ষার্থীদের মারাত্মক স্বাস্থঝুকির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা কেন্দ্রে নমুনা পরীক্ষা করালে পানিতে অতিরিক্ত মাত্রার আয়রণ উপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসে। কাজী নজরুল ইসলাম হল ও নবাব সলিমুল্লাহ হলের পানির পাম্প একই হওয়ায় হল দুটির প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুকিতে রয়েছে।
পানির তুলনামূলক মান যাচাই করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের পানিও পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানকার পানিতে আয়রনের মাত্রা গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে সামান্য বেশি হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের পানিতে উচ্চ আয়রণের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসংস্থার (ডব্লিওএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী খাবার পানিতে আয়রণের সবোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.৩ পিপিএম। অথচ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের পানিতে আয়রণের মাত্রা ৬৬.৫ পিপিএম। যা সংস্থাটির নির্দেশিত মাত্রার প্রায় ২২০ গুণ। অন্যদিকে মীর মশাররফ হোসেন হলের পানিতে ৩ পিপিএম মাত্রার আয়রন শনাক্ত হয়েছে। যা সংস্থাটির নির্দেশিত মাত্রার সামান্য বেশি।
ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা মীর মশাররফ হোসেন হল এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের পাম্প থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণে দেখেছি, কাজী নজরুল ইসলাম হলের পানিতে আয়রনের মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ। দীর্ঘমেয়াদে এই পানি ব্যবহার স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৫২ ব্যাচের আবাসিক শিক্ষার্থী মো: মহিউদ্দীন আহমেদ সৌরভ বলেন, ‘বোতলে পানি রাখলে দ্রুতই পানি লাল হয়ে যাওয়া দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। এখন পরীক্ষায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। হলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সরাসরি ট্যাপ থেকে পানি পান করে। আমরা চাই দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হোক।’
দীর্ঘমেয়াদে এ পানি ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুকির বিষয়ে পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজা মোবরক বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় যে ফলাফল এসেছে সেটি বেশ উদ্যেগজনক। দীর্ঘদিন এ পানি ব্যবহার করা হলে হেমোক্রোমাটোসিস নামক অবস্থা তৈরি হতে পারে, যেখানে লিভার, হার্ট ও অগ্ন্যাশয়ে অতিরিক্ত আয়রন জমে অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত আয়রন লিভারের কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করে। এতে লিভার প্রদাহ, ফাইব্রোসিস এমনকি সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা, ত্বক ও চুলের সমস্যা, এলার্জিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।’
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বোতলের নিচে লালচে আবরণ জমায় শিক্ষার্থীরা পানি পরীক্ষার দাবি জানায়। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে আমরা নমুনা পরীক্ষা করাই। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলে বলে আশা করছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, ‘প্রাথমিক পরীক্ষায় যে ফলাফল এসেছে সেটি অত্যন্ত উদ্যেগজনক। অন্যান্য হলগুলোতেও এ সমস্যা থাকতে পারে। আমরা বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিয়ে পুণরায় নতুন ৬টি হলের পানি পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করাবো। প্রয়োজনে পানির পাম্প স্থানান্তর কিংবা বিকল্প সমাধানের বিষয়টি বিবেচনা করবো।’
মন্তব্য করুন
