

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিজয় দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ফিস্ট নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফিস্টের খাবারের তালিকায় শুধু মুরগি ও ডিম অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
জানা যায়, অতীতে ফিস্ট আয়োজন করা হলে গরু বা খাসির মাংস পরিবেশন করা হতো এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি। তবে এবার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা আদায় করা হলেও গরু কিংবা খাসির কোনো পদ রাখা হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফিস্টে অংশ নিতে আগে রেজিস্ট্রেশন, পরে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করতে হয়েছে। অথচ টোকেনে স্পষ্টভাবে “উন্নতমানের খাবার” লেখা থাকলেও পরিবেশন করা হচ্ছে ব্রয়লার মুরগির মাংস।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শাবিপ্রবি শাখার সাবেক আহ্বায়ক পলাশ বখতিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‘বিজয় দিবসের ফিস্টে মাংস হিসেবে ব্রয়লার মুরগি দেওয়া হলে সেটাকে কোনোভাবেই ফিস্ট বলা যায় না। টোকেনের ওপর লেখা ছিল উন্নতমানের খাবার। উন্নতমানের খাবার বলতে আমরা ব্রয়লার মুরগিকে বুঝি না। এটা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্রেফ প্রতারণা।’
নাজমুস সাকিব নামের এক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক বেলা খাওয়াতেও প্রশাসন যে নাটক শুরু করেছে, তা দেখে নিজেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভাবতেও লজ্জা লাগে। এক বেলা খাবারের জন্য রেজিস্ট্রেশন, ফি, টোকেন সব শেষে তথাকথিত ফিস্টে ব্রয়লার মুরগি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসব প্রহসন আর কত? এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কবে শিক্ষার্থীবান্ধব হবে?
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক মোহাম্মদ এছাক মিয়া বলেন, 'আমাদের এইবার টার্গেট ছিল আবাসিক-অনাবাসিক সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে ফিস্ট করা। আমরা ভেবেছিলাম ছয়-সাত হাজার শিক্ষার্থী হবে। এতো শিক্ষার্থীদের জন্য গরু ও খাসি দুই পদের রান্নার পরিমাণ নিয়ে বাবুর্চিরা বলেছিল ঝামেলা হতে পারে। কিন্তু প্রায় তিনহাজারের মতো শিক্ষার্থীরা রেজিষ্ট্রেশন করেছে। যদি হল অনুযায়ী করা হতো তাহলে বিষয়টা সহজ ছিল। প্রথমবার সবার জন্য আয়োজন করা হয়েছে তাই এমনটা হয়েছে। আগামীতে আর হবেনা। আমাদের ছাত্র সংসদ আসবে, তারা নিজেরাই পরামর্শ দিবে এবং নিজেরাই ব্যবস্থা নিবে।'
মন্তব্য করুন
