

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা মেটাতে দীর্ঘদিন পর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্ট থেকে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার দুই হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিচ্ছে। এর আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী তাদের বকেয়া পাওনা সুবিধা পাবেন।
এবারই প্রথম কোনো ঝামেলা বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ ছাড়া সরাসরি আইবাস++ সফটওয়্যারের মাধ্যমে উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।
অবসর সুবিধা বোর্ডের অধীনে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শিক্ষকরা একজন সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
এ জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চাকরিকালে মূল বেতনের ৬ শতাংশ চাঁদার ভিত্তিতে অবসর সুবিধা নির্ধারণ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ জন্য সরকার ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিচ্ছে। এর আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার ১১৫ জন এবং কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পাবেন।
সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী এ ধাপে সুবিধা পাবেন। কল্যাণ ট্রাস্টে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা হওয়া প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। মূল বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদার ভিত্তিতে এককালীন সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই লাখ এবং সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কল্যাণ সুবিধা পাওয়া যাবে।
বর্তমানে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট মিলিয়ে ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি আবেদন ঝুলে রয়েছে, যা পুরোপুরি নিষ্পত্তিতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন।
সরকার সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় বড় একটি অংশের পাওনা মেটানো সম্ভব হলেও, সবার বকেয়া টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে আগামী ১৩ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সুবিধাভোগীদের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।