শনিবার
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাবিতে মদ-গাঁজা সেবনকালে ধরা একদল শিক্ষার্থী 

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:০৩ পিএম আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:২০ পিএম
জাবিতে মদ ও গাঁজা সেবনরত অবস্থায় একদল শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরেছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
expand
জাবিতে মদ ও গাঁজা সেবনরত অবস্থায় একদল শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরেছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ হলের বি ব্লকের ছাদ থেকে বাংলা মদ ও গাঁজা সেবনরত অবস্থায় একদল শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরেছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। মাদকসেবী শিক্ষার্থীরা ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) বিভিন্ন ব্যাচের বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর ) রাত ২টায় তাজউদ্দীন হলের বি ব্লকে ছাদ থেকে তাদেরকে হাতেনাতে ধরেন শিক্ষার্থীরা, এ সময় হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আটককৃতরা হলেন- আদিত্য, জাবির, তৌহিদ, জিহাদ, লাবিব, সাখাওয়াত, রেজওয়ান, নোমান, প্রসেনজিৎ, সামির এছাড়াও আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন যাদের নাম জানা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, হলের ছাদে মদ ও গাঁজা সেবনের খবর পেয়ে হলের সাধারন শিক্ষার্থীসহ হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের কয়েকজন প্রতিনিধি ছাদে গিয়ে দেখতে পায়, প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী গাজা, বাংলা মদ ও অন্যন্য মাদকদ্রব্য সহ একটি আসর বসিয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে জানালে তারা পরিচয়সহ ভিডিও করে রাখতে বলে। শিক্ষার্থীরা কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তারা আক্রমণাত্মকভাবে কথা বলে এবং তাদেরকে মারতে তেড়ে আসে৷ বলে, তোরা কে..? তোদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে ডাক তারা আসুক পারলে এ সময় সাংবাদিকরা পরিচয় জানতে চাইলে তাদের সাথেও খারাপ আচরণ করেন এবং তারা চলে যাওয়ার সময় এক জাকসু সম্পাদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

মাদকসেবীরা অধিকাংশই তাজউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী না তারা অন্য হলে থেকে এখানে এসেছিলেন মাদকের আসর বসাতে। এরপর হল গ্রুপে বিষয়টি জানাজানি হলে এবং হলের অনেক শিক্ষার্থী ছাদে অবস্থান নেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রশাসন তাদের ভিডিও ফুটেজ ও মাদকের স্যাম্পল সংগ্রহে রেখে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বলে হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতিনিধিদের।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনে মোবারক বলেন, মাদকসেবনরত অবস্থায় তাদেরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। তারা দুই একজন ছাড়া কেউ এই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী না, অন্য হল থেকে এখানে এসেছে মদ খাওয়ার জন্য। এ বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে জানালে তারা আমাদেরকে তাদের পরিচয়সহ ভিডিও করে রাখতে বলে। আমরা তাদের পরিচয় জানতে গেলে আমাদের সাথে আক্রমণাত্মকভাবে কথা বলে এবং তারা চলে যাওয়ার সময় আমাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এই প্রেক্ষিতে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে সংঙ্কিত বোধ করছি।

তাজউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শরিফুল আলম সাকিব বলেন, হলের ছাদে মদ ও গাঁজা সেবনের খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই এবং বাংলা মদ, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাই। পরে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা আমাদের সাথে আক্রমণাত্মক আচরণ করা শুরু করেন এবং একজন সাংবাদিক তাদের সাথে কথা বলতে গেলে তার সাথে ও এগ্রেসিভ আচরণ করে। আমাদের সাথে হল সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাজউদ্দীন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ বলেন, তাদেরকে আমরা মদ ও গাঁজাসহ হলের ছাদ থেকে ধরি এবং প্রক্টর অফিসকে এ ব্যপারে জানাই। তারা আমাদেরকে ভিডিও করে তাদের পরিচয় জানতে বলে। আমরা তাদের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। মদ, গাঁজা সহ মাদকদ্রব্যগুলো আমরা জব্দ করেছি এগুলো প্রশাসনের কাছে জমা দিবো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা এ ব্যাপারে জানিয়েছি তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।

তাজউদ্দীন হল সংসদের ভিপি বলেন, আমরা মাদক সহ কিছু শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করেছি এবং তাদের প্রত্যেকের পরিচয় শনাক্ত করে রেখেছি, এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X