

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজান মাসে রোজা রেখে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা সংশোধনের দাবি তুলেছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা।
চলতি বছরের ছুটির তালিকায় শুক্র ও শনিবার ছুটি গণনায় অসংগতি এবং রমজানে পর্যাপ্ত ছুটি না থাকায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবর রহমান যৌথভাবে সই করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলির সই করা একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
তবে দাপ্তরিকভাবে তালিকাটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয় বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।
সংগঠনটির মতে, যদি ভাইরাল হওয়া ছুটির তালিকাটি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে তাতে একাধিক অসংগতি রয়েছে, যা অনিচ্ছাকৃত ভুল বা মুদ্রণজনিত কারণে হয়ে থাকতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আগের বছরগুলোতে শুক্র ও শনিবার সাধারণত ‘শূন্য দিন’ হিসেবে গণনা করা হতো। চলতি ছুটির তালিকাতেও ২, ৬, ১৩, ২০, ২২ ও ২৩ নম্বর ক্রমিকে শুক্র ও শনিবার হওয়ায় শূন্য দিন হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তবে একই তালিকার ৮ নম্বর ক্রমিকে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঘোষিত ছুটির মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারকে ছুটির দিনের অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। আবার ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত ১০ দিনের ছুটিতেও শুক্র ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতে মোট ছয় দিন অতিরিক্তভাবে ছুটির তালিকায় যুক্ত হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।
এ ধরনের অসামঞ্জস্য শিক্ষক সমাজ ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ বলছে, রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র। এই সময়ে সিয়াম পালন করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা শিক্ষকদের জন্য শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য। একই সঙ্গে অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থীও রোজা রেখে বিদ্যালয়ে আসে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্যও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষক নারী হওয়ায় বিদ্যালয়ের কাজ শেষে বাসায় ফিরে ইফতার প্রস্তুতির অতিরিক্ত চাপও একটি বড় বাস্তবতা হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় অনুভূতি ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন করে নতুন করে প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সংগঠনটি।
মন্তব্য করুন

