

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সড়কে নিরাপত্তা চেকপোস্টে আরোহীসহ একটি মোটরসাইকেল দাঁড় করালো পুলিশ। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে দেখতে চালককে জিজ্ঞেস করলেন-'এই গভরী রাতে কোথায় যাছেন?।' উত্তরে চালক বললেন, 'ভাই সুর্য মামাকে জাগাইতে যাচ্ছি, যেনো কাল সকালে লেইট না করে।' চালকের উত্তর শুনে হাসতে হাসতে পুলিশ সদস্য বললেন, এটম খাইছেন না?। চালক 'হ্যাঁ' বলে এবং চালকের পেছনে বসা আরোহী পকেট থেকে একটি এটমগাম চুইংগাম বের করে পুলিশকে দিয়ে চেকপোস্ট অতিক্রম করে চলে যান। অথচ চালক ও আরীহো হেলমেট না পরেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং পুলিশ তা দেখে এ বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা বা কথা না বলেই ছেড়ে দেন।- পুরো এই ঘটনাটি প্রাণ-আরএফএলের চুইংগাম ব্র্যান্ড 'এটমগাম' এর বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত হয়েছে।
গত ৬ মে এটমগামের ফেসবুক পেইজে একটি ভিডিও বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়। ঢাকা মহানগরীর যেকোনো মেট্রোরেল সংলগ্ন এলাকায় শুটিং হওয়া বিজ্ঞাপনটিতে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ছোট পর্দার অভিনেতা বাশার বাপ্পি। প্রচারিত ওই বিজ্ঞাপনটিতে দেখা যায়, ট্রাফিক আইন অমান্যকারীকে প্রাণ-আরএফএলের 'এটমগাম' চুইংগাম নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এমন ঘটনায় তৈরি হয়েছে সমালোচনা। এটমগামের পোস্টে মো. রনি নামে এক যুবক কমেন্টে লিখেছেন, হেলমেটের জন্য কিছু বললেন না। পরবর্তীতে এই কমেন্টটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আইন, নীতি ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে এমন বিজ্ঞাপন কতটা গ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্ন এখন জনমনে।
তৌফিক হাসান নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “সড়কে হেলমেট ছাড়া ধরলেই মামলা দেয়, কোনো কারণ শুনে না। আর বিজ্ঞাপনে এসব কি দেখাচ্ছে? এতে করে যারা সড়কে আইন মানেন না, তারা আরও উদ্বুদ্ধ হবে। এমন বিজ্ঞাপন প্রচার করা ঠিক না”।
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার-২০১৪-এর 'সম্প্রচারের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়' অধ্যায়ের ৫.১.৫-এ বলা হয়েছে- কোন অনুষ্ঠান বা বিজ্ঞাপনে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোন সংস্থা এবং অপরাধ রোধ, অনুসন্ধান ও তদন্ত এবং অপরাধীকে দন্ড প্রদানে দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রতি কটাক্ষ বা বিদ্রুপ কিংবা তাদের পেশাগত ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে পারে এমন কোন দৃশ্য প্রদর্শন কিংবা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। অথচ, প্রাণ-আরএফএলের চুইংগাম ব্র্যান্ড 'এটমগাম' এর এই বিজ্ঞাপনে পুলিশি কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন করে প্রচার করা হয়েছে।
কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল আরোহীকে উৎসাহিত করে চকলেট বিনিময় করার দৃশ্য আইনের দৃষ্টিতে ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত দায়িত্বহীন ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী নীলু। তিনি বলেন, এ ধরনের উপস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের ঘটনাকে তুচ্ছ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে দেখানোর ঝুঁকি তৈরি করে, যা সড়ক নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের চেতনার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো, বিজ্ঞাপনটিতে পুলিশের চরিত্রকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা ও পেশাগত সততা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। পুলিশ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান; তাই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তাদের ভাবমূর্তি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করা উচিত।
বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুলিশি চরিত্রকে বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করার বিষয়ে প্রতিবেদক যোগাযোগ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সঙ্গে। এসময় ডিএমপির মুখপাত্র এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, বিজ্ঞাপনটি দেখে যদি মনে হয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক তৌহিদ জামান বলেন, দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানাতে পারবেন।
