শুক্রবার
১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুধু বৃষ্টি নয়, রাজধানীর জলাবদ্ধতার পেছনে বড় দায় মানুষেরও

মাসুম পারভেজ
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১০:০০ এএম আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ১০:১২ এএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand
ছবি: এনপিবি নিউজ

রাজধানীতে আকাশ মেঘলা করে দু-এক ফোঁটা বৃষ্টি নামলেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে নগরবাসীর। মিরপুর থেকে মতিঝিল, কিংবা পুরান ঢাকার বংশাল থেকে ধানমন্ডি—অল্প বৃষ্টিতেই রাজপথ থেকে অলিগলি তলিয়ে যাচ্ছে হাঁটু সমান পানিতে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রতি বছর দুই সিটি করপোরেশন শত শত কোটি টাকার বাজেট, নতুন প্রকল্প আর গালভরা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি নেই। তবে এই সংকটের জন্য কেবল কর্তৃপক্ষ নয়, বরং নগরবাসীর অসচেতনতা ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার অভ্যাসকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি বৃষ্টির পর রাজধানীর সূত্রাপুর, বংশাল ও নারিন্দা এলাকায় দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ড্রেন থেকে বস্তায় বস্তায় ময়লা তুলে স্তূপ করছেন রাস্তার পাশে। সেই স্তূপের ভেতরে উঁকি দিলে দেখা যায় পলিথিন আর প্লাস্টিক বোতলের পাহাড়। শুধু তাই নয়, ড্রেন থেকে বেরিয়ে আসছে পুরোনো ছেঁড়া জুতো, কাপড়ের টুকরো, এমনকি আসবাবপত্রের ভাঙা অংশও।

ডিএসসিসি’র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, অনেক এলাকার ড্রেন মাসে দুবারও পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু বাসিন্দাদের ফেলা বর্জ্যের কারণে ড্রেনের মুখ দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ হয়ে সৃষ্টি হয় কৃত্রিম বন্যা।

রাজধানীর পথে হাঁটলে হরহামেশাই দেখা যায় চলন্ত গাড়ি বা ফুটপাত থেকে বিস্কুট-চিপসের প্যাকেট কিংবা প্লাস্টিক বোতল ড্রেনে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। বংশাল এলাকায় কথা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রকিবুল হাসানের সাথে, যিনি পানি পানের পর বোতলটি রাস্তায় ছুড়ে ফেলেন। ডাস্টবিনে না ফেলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আশেপাশে ডাস্টবিন নেই, তাই ফেলেছি। সবাই ফেলছে, আমি একলা ফেললে তো আর দোষ নেই।"

এই মানসিকতাই রাজধানীকে ডুবিয়ে মারছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষক নজরুল মুন্সি বলেন, "আমাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা। ড্রেন ভরাট হয়ে গেলে দোষ দেই কর্তৃপক্ষের, অথচ ড্রেনটা আমরাই ভরাট করছি।"

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সম্পাদক মু. মোসলেহ উদ্দিন হাসান বলেন, "আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার আলাপ দীর্ঘদিনের। কিন্তু আমাদের অসচেতনতার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ছে। নাগরিকরা সচেতন না হলে কোনো প্রযুক্তিতেই জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব নয়।"

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার জানান, প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে কয়েকশ কর্মী কাজ করেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "পলিথিন-প্লাস্টিক তো আছেই, অবাক হওয়ার বিষয় হলো ড্রেনের ভেতর লেপ-তোষক, কম্বল এমনকি গাড়ির টায়ারও পাওয়া যায়! নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এই বিশাল শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা অসম্ভব।"

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন