মঙ্গলবার
১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার নীতিমালা-২০২৫ বাতিলের দাবিতে ফের খুচরা বিক্রেতাদের মানববন্ধন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
expand
সার নীতিমালা-২০২৫ বাতিলের দাবিতে ফের খুচরা বিক্রেতাদের মানববন্ধন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ বাতিলের দাবিতে সোমবার (১১ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে চতুর্থবারের মতো খুচরা সার বিক্রেতাদের মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে সারা দেশ থেকে আগত কয়েক হাজার খুচরা সার বিক্রেতা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৫ সালের নীতিমালাটি অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু আমলা একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে অংশীদারদের মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে প্রণয়ন করেছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান ৪৬ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা বেকার হয়ে পড়বেন এবং মাঠপর্যায়ে তাদের বিনিয়োগকৃত লক্ষ লক্ষ টাকা অনাদায়ী থেকে যাবে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

বক্তারা জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা-২০২৫ বাতিল করে সকল অংশীদারের মতামতের ভিত্তিতে নতুন ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। অন্যথায় সারাদেশের সকল সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতারা কৃষকদের কাছে সার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সারাদেশে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে রাস্তাঘাট অচল করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এর ফলে সামনে আমন মৌসুমে কৃত্রিম সার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং কৃষি খাতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

এর আগে সার ডিলারদের দাবিতে জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা-২০২৫ বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আরও তিনবার বিএফএ ও খুচরা সার বিক্রেতারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তারা বলেন, এরপরও সরকার বিষয়টি নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদের নির্দেশে সার নীতিমালা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের করণীয় বিষয়ে অধিকতর পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান সেলিম খানের কাছে কমিটির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “খুচরা সার বিক্রেতাদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। সরকার সকল অংশীদারের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি। সকল অংশীদারের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। খুব শিগগিরই সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এমন একটি নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হবে, যেখানে সকল অংশীদারের স্বার্থ রক্ষা পাবে।”

অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম খান বলেন, “অভিযুক্ত সার ব্যবসায়ীদের কোনো নির্দিষ্ট তালিকা এখনো প্রস্তুত করা হয়নি। কেউ যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে আমরা কাজ করছি।”

জাতীয় সংসদে চিফ হুইপের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর সংসদে ফ্যাসিবাদের সময় নিয়োগ পাওয়া সার ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব সেলিম খান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রচারের কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, সংসদের সকল সদস্য যদি এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সার ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল ও নতুন নিয়োগের বিষয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, “সার ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল বা নতুন করে নিয়োগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে আসেনি।”

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে ৩০ মে পর্যন্ত খুচরা সার বিক্রেতারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ৩০ মে-পরবর্তী সময়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থা কীভাবে চলবে—তা নিয়ে এখন কৃষক, সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন