

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজান এলেই পুরান ঢাকার চকবাজার রূপ নেয় এক ইফতারের নগরীতে। চারশ বছরের ঐতিহ্য, মুঘল আমলের স্বাদ আর আধুনিক চাহিদার মিশেলে এখানে তৈরি হয় কাবাব, হালিম, বোরহানি, বুটের ডাল, কাচ্চি, তেহারি ও নানা ভাজাপোড়া। বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়—দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই ‘রাজকীয়’ ইফতারের স্বাদ নিতে।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান শুরুর আগেই প্রস্তুতি শুরু হয়। বিশাল ডেকচিতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ধরে হালিম রান্না করা হয়। প্রতিদিন কয়েক মণ মাংস ও ডাল ব্যবহার হয় বলে দাবি তাদের। ইফতারের আগে বাজারজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
তবে ঐতিহ্যের আড়ালে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, অনেক দোকানে অতিরিক্ত ও পুনর্ব্যবহৃত তেল ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ভেজাল রং ও রাসায়নিক মিশিয়ে খাবারের রং ও স্বাদ বাড়ানো হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
বরিশালগামী লঞ্চযাত্রী হাবীব বলেন, ছেলে-মেয়েরা ভিডিও দেখে চকবাজারের ইফতার খেতে চেয়েছে। তাই যানজট পেরিয়ে কিনলাম। তবে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত জানি না।
স্কুল শিক্ষক সালমা আক্তার বলেন, স্বাদ ভালো হলেও ভিড়ে ধুলাবালি পড়ে। সব দোকান পরিষ্কার নয়।
কলেজ শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, মেসে ইফতার তৈরির সুযোগ নেই। তাই এখান থেকেই কিনি। তবে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।
পুষ্টিবিদ ফয়েজ উল্লাহ বলেন, অতিরিক্ত তেল ও ভেজাল রাসায়নিক পেটে আলসার, কিডনি ও লিভারের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী বলেন, শিশুদের জন্য এ ধরনের খাবার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। ক্যানসারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবারে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ইফতার শুরু হোক খেজুর ও পানি দিয়ে; কম তেল ও মসলাযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া উচিত; পরিচ্ছন্ন দোকান থেকে খাবার কিনতে হবে; পর্যাপ্ত পানি পান ও সাহরিতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ জরুরি।
রমজানের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রশাসনিক নজরদারি—দুইয়ের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন
