মঙ্গলবার
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমজমাট সদরঘাট-বাদামতলী খেজুর বাজার, ক্রেতা-ব্যবসায়ীর ভিড় 

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
পুরান ঢাকার সদরঘাট–বাদামতলী পাইকারি ও খুচরা ফলের বাজার
expand
পুরান ঢাকার সদরঘাট–বাদামতলী পাইকারি ও খুচরা ফলের বাজার

রমজানকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার সদরঘাট–বাদামতলী এলাকাতে খেজুরের বেচাকেনা কয়েক গুণ বেড়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ও খুচরা ফলের বাজার হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় আমদানিকারকদের শতাধিক আড়ত থাকায় তুলনামূলক কম দামে নানা জাতের খেজুর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদেরও ভিড় বাড়ছে।

বাদামতলীতে খেজুর কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, রমজান উপলক্ষে পরিবার ও আত্মীয়দের জন্য প্রায় ৮ কেজি খেজুর কিনেছি। এখানে দাম কম এবং এক জায়গায় অনেক ধরনের খেজুর পাওয়া যায়। তাই একসঙ্গেই কিনে নিচ্ছি। তার মতো আরও অসংখ্য ক্রেতা ও ব্যবসায়ী প্রতিদিন এই বাজারে আসছেন।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে আড়ত এলাকায় প্রতি ৫ কেজি প্যাকেট খেজুর বিক্রি হচ্ছে— মরিয়ম ভিআইপি ৫,০০০ টাকা, কালনি ২,৯০০, ফরিদা ১,৭৫০, সুক্কারি ১,৮৫০, সুফরি ২,০০০, ছড়া ২,২০০, মেভজুল ৫,৭০০, মিনিফি ১,৮০০, রাবেয়া ২,০৫০, কালমী ২,৬০০, খুরমা ১,০০০, মরিয়ম জমজম ৪,৭০০, মাসরুক ২,৩০০, মেভজুল বড় ৭,২০০, মেভজুল মাঝারি ৬,১০০, মাবরুম ৫,০০০, সুল্যাস ২,৩০০, দুখানী মরিয়া ৪,০০০ এবং মালমী (ভিআইপি) ৩,৪০০ টাকা। ৩ কেজি প্যাকেট: আজোয়া ২,৭০০, কালমী ২,২০০ ও মাবরুম ২,৯০০ টাকা। আর ১ কেজি প্যাকেট: মেভজুল বড় ১,৫৫০, মাঝারি ১,৪০০, ছোট ১,৩০০ এবং মাবরুম মাঝারি ৩,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সদরঘাট–বাদামতলী ফল বিক্রয় এলাকার তাওয়াক্কুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন জানান, এ এলাকায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি খেজুরের দোকান রয়েছে। রমজান ঘিরে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক ক্রেতা আসছেন।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। প্রথম রমজান পর্যন্ত এই ব্যস্ততা থাকবে। এরপর কিছুটা কমে আসবে। তিনি জানান, বিক্রির সময় সামান্য কমিশন দেওয়া হয় এবং ফল সমিতির তদারকিও রয়েছে।

ওয়াইজঘাট আল-ফেসানী (র.) মার্কেটের রহমত পাকা ফলের আড়ত ও কমিশন এজেন্টের স্বত্বাধিকারী জাকির শেখ জানান, খেজুর ব্যবসায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।

ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে— মেয়াদোত্তীর্ণ, পঁচা বা দুর্গন্ধযুক্ত খেজুর বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মেঝেতে খেজুর রাখা যাবে না; কাঠের তক্তা বা চাটাইয়ের ওপর রাখতে হবে এবং বস্তাবন্দি খেজুর স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ কোল্ড স্টোরেজে রাখা মাল্টা বা ম্যান্ডারিন বিক্রির আগে সমিতির অনুমতি নিতে হবে।

একই সঙ্গে পরিমাপের স্কেল ও পাল্লা যাচাই, মূল্য তালিকা টাঙানো এবং বিক্রির মেমো সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে কোনো সময় নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ও বিএসটিআই অভিযান চালাতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

সমিতির সদস্য নাজিম উদ্দীন ও রিফাত হোসেন বলেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজারে কোনও ধরনের ভেজাল, পচা বা নিম্নমানের খেজুর বিক্রি করা হবে না। আমরা সব ব্যবসায়ীকে কঠোরভাবে গুণগতমান বজায় রাখতে, সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে নির্দেশ দিয়েছি। ক্রেতারা যেন ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ ও মানসম্মত খেজুর পান, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সমিতি এবং কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X