

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে সোমবারও দাম বেড়েছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
গ্রিনিচ মান সময় বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৯১ ডলারে ওঠে। গত ১৫ জুনের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম।
গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে সমঝোতার পর তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরেছিল। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় বর্তমান দাম এখনো প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার ইরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার ইরানের সক্ষমতা কমানোই এসব অভিযানের লক্ষ্য।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী সুপার ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিও করেছে তারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করেছে। একই সঙ্গে এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ট্রানজিট ফি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৫৭টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এই সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি কম।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ায় বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের আগে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।