

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চার ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর বিকাশ অ্যাপে এবার যুক্ত হলো ইস্টার্ন ব্যাংকের মাসিক ডিপিএস সেবা। আর্থিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে টেকসই করার লক্ষ্যেই বিকাশ তার প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিপিএস সেবা সংযুক্ত করেছে।
বিকাশ অ্যাপের ডিজিটাল সেভিংস সেবায় নতুন যুক্ত হওয়া ইস্টার্ন ব্যাংক-এ ৬ মাস থেকে ৪ বছর মেয়াদে প্রতি মাসে ৫০০-২০,০০০ টাকা পর্যন্ত জমানো যাচ্ছে।
যেভাবে খোলা যাচ্ছে ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস:
নতুন ডিপিএস খুলতে বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘সেভিংস’ আইকনে ক্লিক করে ‘নতুন সেভিংস খুলুন’-এ ট্যাপ করতে হবে। সেভিংসের ধরন থেকে ‘সাধারণ সেভিংস’ বেছে নিয়ে ডিপিএস-এর ধরন (মাসিক), মেয়াদ- ৬ মাস বা ১/২/৩/৪ বছর ও প্রতি মাসে কত টাকা জমাতে চান তা নির্বাচন করতে হবে।
পরের ধাপে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকের তালিকা থেকে ইস্টার্ন ব্যাংক বেছে নিয়ে সেভিংস-এর নমিনি সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।
তারপর সেভিংস-এর বিস্তারিত দেখে এবং নিয়ম ও শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে, বুঝে সম্মতি দিতে হবে। সবশেষে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন দিয়ে স্ক্রিনের নিচের অংশ ট্যাপ করে ধরে রাখলেই ডিপিএস-এর আবেদন সম্পন্ন হবে। প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে বিকাশ ও ব্যাংক থেকে চলে আসবে নিশ্চিতকরণ মেসেজ। বিকাশ অ্যাপ থেকে একাধিক ডিপিএস খোলার সুযোগ রয়েছে যেকোনো গ্রাহকের জন্য।
বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় ব্যালেন্স থাকা সাপেক্ষে নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপিএস-এর টাকা কেটে নেয়া হয়। ডিপিএস-এর মেয়াদপূর্ণ হয়ে যাবার পর বিকাশ অ্যাপেই মুনাফাসহ মূল টাকা পেয়ে যাবেন গ্রাহক, যা কোনো খরচ ছাড়াই ক্যাশ আউট করা যায়।
এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদপূর্তির আগেই ডিপিএস ভাঙ্গতে চাইলে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর গ্রাহক তা বিকাশ অ্যাপ থেকেই করতে পারবেন।
এই বিষয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিএমডি এবং রিটেইল ও এসএমই ব্যাংকিং প্রধান এম খোরশেদ আনোয়ার বলেন, ‘বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ইবিএল ডিপিএস খোলার এই উদ্যোগ দেশজুড়ে গ্রাহকদের জন্য সঞ্চয়কে আরও দ্রুত, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই যৌথ উদ্যোগের ফলে গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপ থেকে সহজ, দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে ইবিএল ডিপিএস খুলতে পারবেন। এর মাধ্যমে ইবিএল আরও বৃহত্তর গ্রাহকশ্রেণির কাছে সঞ্চয়সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাবে, যা উদ্ভাবনী ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে টেকসই আমানত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে।’
বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, ‘বিকাশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই ধরনের নিবিড় সহযোগিতা ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা সীমিত সেবা পাওয়াসহ সকলের জন্য আর্থিক সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছে, যা দেশের ডিজিটাল লেনদেনের ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, কৃষক, গৃহিণী, শিক্ষার্থী, এমনকি প্রান্তিক এলাকার নাগরিকরাও বিকাশ অ্যাপে ডিপিএস খুলছেন। বিকাশ তার গ্রাহকবান্ধব মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আর্থিক খাতে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে, যা সমাজের সকল স্তরের মানুষকে আত্মবিশ্বাসের সাথে সঞ্চয়ে সক্ষম করে তুলেছে, এবং একই সাথে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে।’
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাসিক ডিপিএস দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিকাশের ডিজিটাল সেভিংস সেবা, যাতে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হয়েছে ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায়, সম্প্রতি যুক্ত হলো ইস্টার্ন ব্যাংকের মাসিক ডিপিএস সেবা।
এদিকে, বিকাশ অ্যাপ থেকে যেসব ডিপিএস খোলা হয়েছে, তার প্রায় ৩৪ শতাংশই খুলেছেন নারীরা। আবার বিকাশ অ্যাপে খোলা ৫৫ শতাংশ ডিপিএসই খোলা হয়েছে ব্যাংকিং সময়ের বাইরে, অর্থাৎ গ্রাহকরা নিজের সুবিধামতো সময়ে সঞ্চয়ের মতো আর্থিক সেবা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
এক জরিপে দেখা গেছে, যেসব গ্রাহকদের ডিপিএস-এর মেয়াদ এরই মধ্যে পূর্ণ হয়েছে, তাদের ৯৬ শতাংশই আবার বিকাশ অ্যাপে পুনরায় ডিপিএস খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
