

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশে প্রবাসী আয়ের উচ্চ প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৯৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। যা টাকার অংকে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকারও বেশি। এর আগে জুলাইয়ে এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। ফলে এক মাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৫৫ কোটি ডলার, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। ব্যাংকটি পেয়েছে ১৬ কোটি ডলার।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, যার মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এরপর ঢাকা ব্যাংক পেয়েছে ১৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার এবং সোনালী ব্যাংক পেয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। অর্থাৎ শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে আগস্টে এসেছে প্রায় ১১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৩৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, আগস্টে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে কোনো রেমিট্যান্সই আসেনি। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক ও ব্যাংক আল-ফালাহ। এ ছাড়া হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানও আগস্টে কোনো রেমিট্যান্স পায়নি।
ব্যাংক খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, আগস্টে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পেয়েছে ৪৩ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। এর সঙ্গে বিশেষায়িত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ২৯ কোটি ১৯ লাখ ডলার যোগ করলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে মোট প্রায় ৭২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার।
সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। আগস্টে এ খাতের ব্যাংকগুলো পেয়েছে প্রায় ২২৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। অন্যদিকে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে মাত্র ৬ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬৭ লাখ ডলার।
জুলাইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, মোট রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। জুলাইয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছিল ২ হাজার ৮৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার, যা আগস্টে বেড়ে ২ হাজার ২৩৪ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক মাসে এ খাতে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৪৪ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিপরীতে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রেমিট্যান্স ৪৩৭ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৪৩৩ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে কমেছে আরও বেশি। জুলাইয়ের ৩২৫ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার থেকে আগস্টে তা নেমে এসেছে ২৯১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর রেমিট্যান্স অবশ্য ৫ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলারে উঠেছে।
সব মিলিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, জুলাই ও আগস্টে দেশে এসেছে ৫ হাজার ৮২৫ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। আগস্টের এই প্রবাহ আগের মাসের চেয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহের ধারাবাহিকতাই নির্দেশ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মাসিক তথ্যেও জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই চিত্র উঠে এসেছে।


