

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বয়লার ও বয়লার কম্পোনেন্ট আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র বা এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার আগে লাগবে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের অনুমোদন। এই অনুমোদন নিশ্চিত করতে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো আমদানিকারক প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়া বয়লার আমদানির জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করতে পারবেন না।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারটি দেশের সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা এক স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই স্মারকটি ব্যাংকগুলোর অবগতির জন্য সার্কুলারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।
কী বলছে বিধিমালা
বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত বয়লার বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী বয়লার বা বয়লার কম্পোনেন্ট আমদানির জন্য আমদানিকারককে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি আমদানির অনুমোদন দেবেন অথবা আবেদন প্রত্যাখান করতে পারবেন।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে বয়লারের মান নিশ্চিত করতে নির্মাতার কারখানা কিংবা উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিদর্শন করা যাবে। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আমদানি নীতি অনুসরণ করতে হবে এবং আমদানিকৃত বয়লার ব্যবহার বা বিক্রির আগেও প্রধান বয়লার পরিদর্শককে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন করলে বয়লার নির্মাণ, নিবন্ধন বা মেরামতের আবেদনও বাতিল করা যেতে পারে।
কেন এ নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ
বয়লার তৈরি পোশাক, বস্ত্র, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ, কাগজ, চামড়া, সিরামিক, রাসায়নিকসহ বিভিন্ন শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। উচ্চচাপের এ সরঞ্জামে কারিগরি ত্রুটি বা নিম্নমানের যন্ত্র ব্যবহার করলে বড় ধরনের শিল্প দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনার ফলে এলসি খোলার আগেই ব্যাংকগুলোকে সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করতে হবে। এতে অননুমোদিত বা নিম্নমানের বয়লার আমদানির সুযোগ কমবে, একই সঙ্গে শিল্প খাতে নিরাপত্তা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিধিবিধান বাস্তবায়ন আরও জোরদার হবে।
ব্যাংকগুলোর করণীয়
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলোকে বয়লার ও বয়লার কম্পোনেন্ট আমদানিসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন পরিচালনার সময় নিশ্চিত হতে হবে যে আমদানিকারক প্রধান বয়লার পরিদর্শকের প্রয়োজনীয় পূর্বানুমোদন গ্রহণ করেছেন। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আমদানিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার মধ্যে আরও সমন্বয় তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্দেশনা মূলত শিল্প নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমদানি ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বাড়াবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।