বৃহস্পতিবার
১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনজীবীর বেশে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়ে আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার কিছু আগে কালো শামলা ও গাউন পরে আদালত চত্বরে তাঁর উপস্থিতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। মূলত ভোট-পরবর্তী সহিংসতা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতেই তিনি আইনজীবীর এই বিশেষ সাজে আদালতে উপস্থিত হন। তাঁকে একনজর দেখতে আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমান বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও সাধারণ সমর্থক।

মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো উচ্চ আদালতে সওয়াল করতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, ১৯৮৫ সালেই বার কাউন্সিলে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। এরপর থেকে নিয়মিত তিনি তাঁর সদস্যপদ নবায়ন বা রিনিউ করে আসছিলেন। আজ সেই দীর্ঘকালীন আইনি যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সরাসরি আদালত কক্ষের ডকে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করেন।

প্রধান বিচারপতির সামনে সওয়াল করতে গিয়ে তৃণমূলনেত্রী বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যে শিশু, নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বিবাহিত নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। মমতা বলেন, পুলিশ এ ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না, ফলে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানান যেন এই অভিযোগগুলো অতিরিক্ত হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়।

আদালত কক্ষে দাঁড়িয়ে আবেগঘন কণ্ঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "রাজ্যের মানুষকে বাঁচান; পশ্চিমবঙ্গ কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়।" তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালত প্রাঙ্গণের একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হয় যে, তিনি সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়ছেন এবং প্রয়োজনে সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দলটির মতে, মমতার এই পদক্ষেপ তাঁর অতুলনীয় সাহস এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।

মামলাটির শুনানিতে তাঁর এই ব্যক্তিগত অংশগ্রহণ এবং সওয়াল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী আইন পেশার মাধ্যমে মানুষের অধিকার রক্ষায় যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা আইনি মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলোর বিপরীতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। আগামী দিনে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন