

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের কর-জিডিপি অনুপাত নিয়ে আলোচনা হলেও তা বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে মনে করেন দেশের ব্যবসায়ী নেতারা। সরকারের রাজস্ব নীতির সমালোচনা করে তারা বলেছেন, যারা বেশি কর দেয়, তাদের ওপর আরো করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। কোনো কোনো ব্যবসায়ী নেতার মতে, সরকারের রাজস্ব পরিকল্পনা স্বল্পমেয়াদী হওয়ার কারণে প্রত্যাশিত সাফল্য মিলছে না।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শিরোনামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এ মতবিনিময় সভা আয়োজন করে। সহযোগী হিসেবে ছিল সমকাল ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোর।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, 'আমরা এর আগে আলাপ করেছিলাম কর-জিডিপি অনুপাত নিয়ে। কথাটা প্রতি বাজেটের সময়, প্রতি সেমিনারের সময় আমরা…একদিন না, আমরা বহুবার বলে আসছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারিনি।'
তিনি আরো বলেন, 'যারা ট্যাক্স দেয়, তাদের উপরে ট্যাক্স বেশি আসে, যারা ট্যাক্স কম দেয়, তাদের না দিলেও তো চলবে, কোনো অসুবিধা নেই। তো এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়ন করা সরকারের জন্য যেমন দুরূহ ব্যাপার, তেমনি আমরা যারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পে বিনিয়োগ করেছি, তাদের জন্য ওই যে ব্যাংক ঋণের অবস্থাটা আবার চলে আসে। তাতে করে যারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি নয়, যারা অবস্থার শিকার, তারাও ওই ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারে না।'
মাহবুবুর রহমান এ পরিস্থিতিতে সরকারকে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে ‘কেয়ারফুল’ থাকার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, 'এজন্য আমি মনে করি যে, এ সম্বন্ধে আমাদেরকে খুবই কেয়ারফুলি আগামী দিনের বাজেট তৈরি করতে হবে, যেন আমরা উভয় দিক কোনোমতে রক্ষা করতে পারি।'
'বিশেষ করে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা স্থানীয় রপ্তানিমুখী শিল্প উৎপাদনকে ব্যাহত করছে, যার প্রভাব কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পড়তে পারে।'
কর আদায় প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমালোচনা করেন ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমানও।
এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, 'আমাদের ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে, যেটা আমরা বলি, আজ মাননীয় মন্ত্রী (বাণিজ্যমন্ত্রী) সামনে থাকায় সাহস পাচ্ছি বলার। এটাকে বলে ‘নেসেসারি ব্যুরোক্র্যাটিক রিপ্রেশন’, সংক্ষেপে ‘এনবিআর’। এটা থেকে আমরা আসলে বেঁচে উঠতে পারছি না।
'আমি আজ মন্ত্রী মহোদয়ের সামনে কী বক্তব্য রাখব, চ্যাটজিপি খুলে জিজ্ঞাস করলাম যে, এখন তো একটা ঝামেলার সময় এসেছে, এনারা দায়িত্ব নিয়েছেন। স্বল্পমেয়াদী শক্তিশালী পদক্ষেপ কী হতে পারে। সেখানে দেখলাম যে, বড় করদাতাদের ধরো, তাদের ট্যাক্স বাড়াও, এক্সিস্টিং ট্যাক্সপেয়ারদের ট্যাক্স, এটা হলো স্বল্পমেয়াদী সমাধান। আমার তো মনে হচ্ছে এনবিআর ওই পথেই হাঁটছে।'
তিনি বলেন, 'আসলে আমরা কেউ দীর্ঘমেয়াদী সমাধান করতে চাই না। আমরা স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী করে ফেলি। এটাই আমাদের বড় ব্যর্থতা।'
রাজস্ব আদায়ে ‘অটোমেশন’ কেন হচ্ছে না সেই প্রশ্ন তুলে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, 'এখানে বাধাটা কোথায়? অটোমেশনের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে দুর্নীতি। এটা দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করে। তো সেটা কার ক্ষতি হবে? সেটা কি ব্যবসায়ীর ক্ষতি হবে, নাকি ট্যাক্স কালেক্টরের ক্ষতি হবে? একটা ট্যাক্স কালেক্টর যে ধরনের সুবিধা পায় ফ্রম কালেক্টিং ট্যাক্সেস, একটা ট্যাক্সপেয়ার কিন্তু সমান সুবিধা পায় না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আখন্দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বলেন, 'আমি মনে করি, আমাদের বাজেট প্রণয়নের সময় আমাদের অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমরা যেন এমন বাজেট প্রণয়ন না করি, যাতে কিনা আমাদের মূল্যস্ফীতি বাড়ে, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়।'
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং তাদের সংগঠনের তরফে আগামী বাজেট নিয়ে প্রস্তাব তুলে ধরেন।
ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয় ডিসিসিআই।
এছাড়া তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির করহার তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় করপোরেট কর রিটার্ন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন