শুক্রবার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগস্ট মাসে রপ্তানি আয় ৪৪৩ কোটি ডলার

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ এএম আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
expand

দেশের রপ্তানি খাতে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই কিছুটা স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। সামনের বড় দিন বা ক্রিসমাস ডে উপলক্ষ্যে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে বলে জানা গেছে। আগস্ট মাসে ৪৪৩ কোটি ডলারের রপ্তানি হয়েছে বলে জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। যার মূল আয় হয়েছে পোশাক রপ্তানি থেকে।

জুলাইয়ে সামান্য নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর আগস্টে পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকেও এসেছে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

ইপিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বাংলাদেশ ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। গত বছরের আগস্টে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৯২ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৫১ কোটি ডলার।

আগস্টের এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩৮৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। জুলাই-আগস্ট দুই মাস মিলিয়ে পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি।

নিট ও ওভেন—দুই খাতেই দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি

আগস্টে পোশাক রপ্তানির দুই প্রধান খাতেই ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যেখানে গত বছরের আগস্টে আয় ছিল ১৭৭ কোটি ১২ লাখ ডলার।

অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। আগস্টে এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৫৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার, গত বছরের একই মাসে যা ছিল প্রায় ১৩৯ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবেও নিটওয়্যার এগিয়ে রয়েছে। জুলাই-আগস্টে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

দুই মাসে রপ্তানি আয় ৯১৬ কোটি ডলার

জুলাই-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ৮৬৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ দুই মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৪৭ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে রপ্তানি আয় সামান্য কমেছিল। এরপর আগস্টে বড় প্রবৃদ্ধি আসায় প্রথম দুই মাসের হিসাবে রপ্তানি খাত আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।

রপ্তানি আয়ের সুখবর শুধু তৈরি পোশাকেই সীমাবদ্ধ নেই। আগকটি অপ্রচলিত ও অ-পোশাক খাতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। ওষুধ বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বেড়েছে ২৪ দশমিম ৮৫ শতাংশ। প্রিন্টেড ম্যাটেরিয়াল বেড়েছে ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্য বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অন্যান্য জুতার রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বিশেষ করে দুই মাসের হিসাবে প্রিন্টেড ম্যাটেরিয়াল, ওষুধ, পাদুকা এবং পাটজাত পণ্যে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর যে দীর্ঘদিনের চেষ্টা, তারও কিছুটা প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও আগস্টে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

এদিকে উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ০৩ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ায় বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ।

রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি অবশ্যই স্বস্তির খবর হলেও এটিকে এখনই বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানো হিসেবে দেখছেন না পোশাক খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, গত বছরের আগস্টে রপ্তানি তুলনামূলক কম ছিল। ফলে কম ভিত্তির ওপর চলতি বছরের আগস্টের প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বেশি দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ সুদহার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি এখনো পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবুও জুলাইয়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর আগস্টে পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে দ্বি-অঙ্কের প্রবৃদ্ধি এবং দুই মাসের হিসাবে মোট রপ্তানিতে ৫.৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নতুন অর্থবছরের শুরুতে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও ডলার আয়ের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ইপিবিও বলছে, প্রধান বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি, বাংলাদেশকে নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে ক্রেতাদের আস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বাড়ার কারণে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank