রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ১২ মাস সময় চায় বিকেএমইএ

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের চিঠিতে তিনি শিল্পকারখানাগুলোর চলমান সংকট বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

চিঠিতে বলা হয়, জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের মারাত্মক সংকটের কারণে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক কারখানা স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি।

বিকেএমইএ বলছে, উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বাধ্য হয়ে অনেক কারখানা মালিককে নগদ অর্থ ব্যয় করে ডিজেল, এলপিজি ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। এসব বিকল্প জ্বালানি সংগ্রহের ব্যয় আগে নির্ধারিত উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে ছিল না। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সংগঠনটির মতে, এ পরিস্থিতিতে জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধ করা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। একই সময়ে রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা এবং বিদেশি ক্রেতাদের দেওয়া অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে শিল্পকারখানাগুলোকে বিপুল অর্থের সংস্থান করতে হচ্ছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বার্থে শিল্পকারখানাগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দেওয়াই প্রয়োজন। এ কারণে জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম চিঠিতে আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সহযোগিতা ও সদয় বিবেচনায় দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাতের উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং জাতীয় অর্থনীতির ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

এদিকে এমন একটি সুবিধা চেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে আরেকটি চিঠি দিবে আরো দুই ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশ (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।

আলোচ্য চিঠিটির অনুলিপি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানিতে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে শিল্পকারখানাগুলোকে। এই অবস্থায় চলতি বিল পরিশোধে কিস্তি সুবিধা চেয়ে সরকারের কাছে বিকেএমইএর আবেদনকে শিল্পখাতের তারল্য সংকট মোকাবিলার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank