

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারে অনিয়ম, দুর্নীতি, ব্যাপক লুটপাট এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ আগামী দিনে বাংলাদেশের জন্য বড় আন্তর্জাতিক পরীক্ষার কারণ হয়ে উঠতে পারে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজে)। একই সঙ্গে এসব অনিয়ম আগামী পারস্পরিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের মূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা জানিয়েছে সংস্থাটির প্রতিনিধি দল।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ১১ থেকে ১৩ আগস্ট তিন দিনের সফরে এপিজে’র একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে আসন্ন Mutual Evaluation-এর প্রস্তুতি, অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে।
সফরকালে অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আর্থিক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়।
এপিজে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থিক খাতের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলো। বাংলাদেশে বিগত শাসনামলে পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাতে ঘটে যাওয়া অনিয়ম, দুর্নীতি, নজিরবিহীন লুটপাট এবং বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়ে প্রতিনিধি দল উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিশেষ করে এসব ঘটনার প্রভাব আগামী Mutual Evaluation-এ বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচকভাবে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের সংস্কার এবং পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকারের নেওয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এপিজে’র প্রতিনিধি দল এবং এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে।
অর্থাৎ, শুধু অর্থপাচার প্রতিরোধে আইন ও বিধিমালা থাকলেই হবে না—ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে সংঘটিত অনিয়মের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, পাচার করা অর্থ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বাস্তব অগ্রগতিও আগামী মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তিন দিনের কর্মসূচিতে এপিজে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), রেজিস্ট্রার অফ জয়েমট স্টক কোম্পানি, কাস্টমস, সীমান্ত ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
আলোচনায় বাংলাদেশের আগের মূল্যায়নের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ পর্যালোচনা, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং নতুন Mutual Evaluation-এর অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বেসরকারি খাতের জন্যও পৃথক অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। এতে ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী, এনজিও, এনপিওসহ বিভিন্ন রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন এবং ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধে একটি দেশের সামগ্রিক অবস্থান মূল্যায়নের প্রক্রিয়াই Mutual Evaluation। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালনে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণের জন্য APG আগামী ২০২৭-২৮ মেয়াদে বাংলাদেশের Mutual Evaluation সম্পন্ন করবে।
এর আগে বাংলাদেশ ২০০২, ২০০৯ এবং ২০১৬ সালে এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০০৯ সালের মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সেই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে বের হয়ে আসে। আর ২০১৬ সালের মূল্যায়নে এপিজে ও এর ৪২ সদস্য রাষ্ট্রের বিবেচনায় বাংলাদেশকে ‘কমপ্লায়েন্ট কান্ট্রি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

