বৃহস্পতিবার
০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় কমেছে। পুরো অর্থবছরের মাত্র দুই মাস ছাড়া বাকি ১০ মাসই পণ্য রপ্তানি কমেছে। এরফলে অর্থবছর শেষে পণ্য রপ্তানির ধারা ছিল নেতিবাচক। ২০২৫–২৬ অর্থবছর শেষে ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পণ্য রপ্তানির এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারেনি। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল ও হিমায়িত পণ্যে প্রবৃদ্ধি আছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পরের মাস থেকে রপ্তানি কমতে থাকে। টানা আট মাস কমার পর গত এপ্রিলে রপ্তানি বৃদ্ধি পায় প্রায় ৩৩ শতাংশ। তারপরের দুই মাসে আবার কমেছে। গত অর্থবছরে চার মাস চার বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হয়েছে। অন্য মাসগুলোয় তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়। সব মিলিয়ে অর্থবছরের ১২ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পণ্য। তার আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। গত জুনে ২৭৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ২১ শতাংশের কাছাকাছি।

গত অর্থবছর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ। এ সময়ে ১২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তার আগের বছরে রপ্তানি হয়েছিল ১১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। গত মাসে ৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম দুই উৎস প্রবাসী আয় ও পণ্য রপ্তানি। বিদায়ী অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় আসে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। এই আয় তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি আমদানি কম হওয়ার কারণে গত মাস শেষে বিপিএম–৬ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। তবে রপ্তানি বেশি হলে রিজার্ভ আরও বেশি হতো।

তৈরি পোশাকের রপ্তানিকারকেরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। এতে তৈরি পোশাকের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ধাক্কা খায়। শুধু তা–ই নয়, ইউরোপের বাজারেও তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। ইরান যুদ্ধ শুরু হলে সংকট আরও প্রকট হয়। ফলে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে গেছে। এর প্রভাবে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধ বাড়ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Spain VS Austria
Scheduled
03 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup