

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
পরে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে সে সময় তিনি গ্রেপ্তারও হন।
স্বাধীনতার পর তিনি শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে যুক্ত হন। ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে হন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি।
এরপর ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে পরাজিত হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন মির্জা ফখরুল। ২০০৯ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি। পরে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল।
বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর বিএনপির রাজনৈতিক সংকট ও বিভিন্ন আন্দোলনের সময়ে দেশে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই পথচলায় ছাত্রনেতা থেকে পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এরপর মহাসচিব হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা ফখরুল।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট বিএনপি তাকে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলীয় মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
দলমত নির্বীবিশেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবার কাছে একজন ভদ্র স্বচ্ছ রাজনীতি বিদ হিসেই পরিচিত। অনেকের কাছে তিনি অনুপেরণারো নাম। তাইতো দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ তার রাজনৈতিক পথচলা এখন তাকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।

