

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের ওয়েসিস এগ্রো নামের এক জৈব সার কারখানার কাঁচামাল পোল্ট্রির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে, ওয়েসিস এগ্রো লিমিটেড নামের ওই জৈব সার কারখানা পরিবেশের নীতিমালা উপেক্ষা করে গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে জৈব সার তৈরী করে আসছে। বিষ্ঠার দুর্গন্ধে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। তাছাড়া বৃষ্টির ঢলে বিষাক্ত এবং দুর্গন্ধযুক্ত মুরগির বিষ্ঠা গিয়ে পড়ছে কৃষকের ফসলি জমিতে। উচ্চ মজুরি দিয়েও পাকা ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছে না কৃষকরা। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লক্ষিন্দর ইউনিয়নে এই সার কারখানাটি গড়ে উঠেছে। জৈব সার তৈরিতে কাঁচামাল হিসাবে ব্যাবহার করা হয় পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা। কারখানার ভিতরে খোলা মাঠে উন্মুক্ত পরিবেশে রাখা হয় এসব বিষ্ঠা। ফলে বিষ্ঠার দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে পাশের জনবসতি এলাকায়। দুর্গন্ধে দরজা জানালা বন্ধ রাখতে হয় গ্রামবাসীর। মাছির উপদ্রোপ বেড়ে যাওয়ায় দিনের বেলায় মশারী টানিয়ে খাবার খেতে হয়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই বিষাক্ত পরিবেশ মারাত্মক হুমকির। তাছাড়া বৃষ্টি হলে পরিবেশ আরো ভয়ানক হয়ে উঠে। বৃষ্টির ঢলে খারখানার ক্ষতিকর বিষ্ঠা গিয়ে পড়ে কৃষকের ফসলি জমিতে। এতে শ্রমিকরাও কাজ করতে চান না এসব জমিতে। ভুক্তভোগী স্থানীয়রা আরো জানান, কারখানার বিরোদ্ধে প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এখন বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর রাস্তা নেই আমাদের। ভুক্তভোগী কৃষক হুরমুজ আলী জানান, আমার ফসলি ধানের জমির পাশেই এই সার কারখানা। কারখানার বিষাক্ত বিষ্ঠা আমার ধানের জমিতে পড়ে হাঁটু সমান হয়ে আছে। দুর্গন্ধে জমিতে নামা যায় না। আমার ৬৩ শতাংশ জমিসহ প্রায় ৫ একর জমির ধান পেকে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে। ধান কাটার জন্য বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছি না।
কারখানার পাশেই বাড়ি শিরিনা বেগমের। তিনি জানান, অসহ্য দুর্গন্ধ আর মাছির যন্ত্রণায় বাড়িতে থাকতে পারি না। আমরা দরিদ্র মানুষ। আমাদের কথা কেউ শুনেনা। প্রতি মাসে আমার বাচ্চাদের হাসপাতালে নিতে হয়। সবসময় অসুস্থ থাকে।
হাবিবুর রহমান নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, কারখার বিষাক্ত দুর্গন্ধে ঘর থেকে বের হতে পারি না। বাচ্চারা খেলাধুলা করতে পারে না। সব জায়গায় সেঁতসেঁতে পরিবেশ। মাছির যন্ত্রণায় মশারী টানিয়ে খাবার খেতে হয় আমাদের।
লক্ষিন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর কীভাবে এই সার কারখানাকে ছাড়পত্র দেয় আমার জানা নেই। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিবে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওয়েসিস এগ্রো লিমিটেডের এডমিন হাসান মিয়া বলেন, আমাদের কোনো অনিয়ম নেই। বিধি মোতাবেক পরিবেশের ছাড়পত্র নিয়েই কাজ করছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের বিষ্ঠার কোনো দুর্গন্ধ নেই। আর কৃষি জমির জন্য এই বিষ্ঠা থেকে তৈরি জৈব সার অত্যন্ত উপকারী। কৃষকের ক্ষতি হলে আমরা ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ওয়েসিস এগ্রো জৈব সার কারখানার অনিয়ম থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবো। বিষয়টি আগামী কালকের মধ্যেই তদন্ত করে দেখবো।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমাদুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।