বুধবার
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনের আগেই ২০ শয্যা হাসপাতালের মালপত্র লুট

কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি।
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
২০ শয্যা হাসপাতাল
expand
২০ শয্যা হাসপাতাল

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দর চৌবাড়ী গ্রামে নির্মিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল উদ্বোধনের আগেই চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালপত্র লুট হয়েছে।

এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিন উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালটি এখনো সরকারিভাবে চালু হয়নি। সেখানে কোনো জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় হস্তান্তরের পর থেকে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মালপত্র চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া মালপত্রের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ওয়াশরুমের স্যানিটারি ফিটিংস, বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের সার্কিট ব্রেকার, ৫৫টি বৈদ্যুতিক পাখা, ৯০টি বৈদ্যুতিক বাল্ব, একটি এসির আউটডোর, পাওয়ার স্টেশনের একটি ট্রান্সফর্মার, রান্নার কাজে ব্যবহৃত ফিটিংস, জেনারেটরের ভেতরে থাকা তামার কয়েল, ব্যাটারি এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তামার তারসহ অন্যান্য সামগ্রী। এসব মালপত্রের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

এ গ্রামে ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিন একর জমির ওপর হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে। ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে এটি সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয় হয় ১৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয় ৩ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৪ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালটি নিয়ে তাদের অনেক প্রত্যাশা থাকলেও নির্মাণের প্রায় আড়াই বছরেও এটি চালু হয়নি। ফলে হাসপাতাল ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। এ সুযোগে সুযোগ সন্ধানীরা মালপত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যবহার না হওয়ায় যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিন উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল চালু না থাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। ইউএনও ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

কামারখন্দ থানার ওসি শাহীন আকন্দ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে এজাহার দিয়েছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। চুরির মালপত্র উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ইউএনও বিপাশা হোসাইন বলেন, জেলা প্রশাসনের সভায় চৌবাড়ী ২০ শয্যা হাসপাতালের অর্গানোগ্রাম সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছিল। আবেদন পাঠানো হয়েছে কি না. তা জানা নেই। হাসপাতাল এলাকায় দ্রুত অভিযান চালানো হবে।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, চুরির ঘটনায় মামলা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X