

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাপক লুটপাট ও অর্থপাচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে মেগা প্রকল্পের আড়ালে প্রায় ত্রিশ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ লাখ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের ১৬টি বড় মেগা প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও অনেক প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ হয়নি। কোথাও ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে গেছে, কোথাও আবার প্রকল্প শুরুই করা যাচ্ছে না। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোও এখন বাংলাদেশে বড় প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে অনীহা দেখাচ্ছে। একসময় যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে দাঁড়াতো, তারাও এখন আস্থা হারাচ্ছে। ফলে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, পদ্মা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের প্রতীক। এই সেতুকে ঘিরে পর্যটন, ইতিহাস ও উন্নয়নের বিষয়গুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম নাসিরউদ্দিন সরদার, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ শরীফ উজ জামানসহ সেতু বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।