রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
সংগৃহীত
expand

যে সন্তান ভিটেমাটির ধারদেনা শোধ করে মায়ের চাতালের কষ্ট ঘোচাতে সুদূর লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন, সেই প্রিয় সন্তান আজ ফিরলেন কফিনবন্দি নিথর দেহ হয়ে।

দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন পর অবশেষে কলারোয়ার তরুণ শুভ দাসের (২৩) মরদেহ নিজ মাতৃভূমিতে পৌঁছাল।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলারোয়া উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর গ্রামে তার নিথর দেহ এসে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজন ও গ্রামবাসীদের বুকফাটা আহাজারিতে চারপাশের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে, পুরো গ্রামজুড়ে নেমে আসে গভীর শোক ও বেদনার ছায়া।

নিহত শুভ দাস শ্রীপতিপুর গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস ও ধানচাতাল শ্রমিক শিখা দাসের মেজো ছেলে। চার ভাই-বোনের পরিবারে অভাবের দিন বদলের বড় স্বপ্ন জড়িয়ে ছিল শুভকে ঘিরে।

প্রায় তিন বছর আগে পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে জমি ও গবাদিপশু বিক্রি এবং চড়া সুদে ধারদেনা করে ছেলেকে লেবাননে পাঠায় পরিবারটি। বাবার ভ্যান চালানোর টানাপোড়েনের সংসার আর মায়ের ধানচাতালের হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে মুক্তি দেওয়াই ছিল শুভর একমাত্র লক্ষ্য।

কিন্তু সেই স্বপ্ন তছনছ করে দেয় যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের একটি মর্মান্তিক বিমান হামলা। গত ১২ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি রুটি বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান সাতক্ষীরার ৩ প্রবাসী কর্মী।

শুভর এই অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারটি এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ধারদেনা পরিশোধের দুশ্চিন্তা আর উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে বাকরুদ্ধ তার ভ্যানচালক বাবা ও চাতাল শ্রমিক মা।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় লাশ দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া লাশ বহন ও দাফন-কাফনের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে আরও ৫০ হাজার টাকা পরিবারটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে লেবাননের একই ড্রোন হামলায় শুভ দাসের পাশাপাশি সাতক্ষীরা জেলার আরও দুই প্রবাসী নিহত হয়েছিলেন। তারা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (২০)।

তাদের মরদেহ গত ২৭ জুন সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে এনে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। তবে নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শুভ দাসের মরদেহ ফেরানো নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে ঘটনার প্রায় চার মাস পর দেশের মাটিতে ফিরল এই তরুণের নিথর দেহ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank