

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রায় দেড় দশকের রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাতক্ষীরায় শক্ত অবস্থান নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জয় তুলে নিয়ে এক প্রকার ‘ক্লিন সুইপ’ করেছে দলটি। বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পেছনে ফেলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের এই বড় ব্যবধানে জয় জেলাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা প্রক্রিয়াধীন থাকলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে চারটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত হয়েছে।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বেশ জমজমাট। ১৬৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৩৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৮৫ ভোট। প্রায় ২৯ হাজার ৩৪৫ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ইজ্জত উল্লাহ।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) এ আসনে জেলার সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় এসেছে। ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক পেয়েছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ৪২৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আব্দুর রউফ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৩২ ভোট। ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১ ভোটের ব্যবধান এই আসনে রীতিমতো চমক তৈরি করেছে।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকেন জামায়াতের মুহা. রবিউল বাসার। ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পান ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৩ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৩৪ ভোট। প্রায় ৩৮ হাজার ৯৩৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন রবিউল বাসার।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের বর্ষীয়ান নেতা গাজী নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬২ ভোট। বিএনপির ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৪ ভোট। ২১ হাজার ৩৮ ভোটের ব্যবধানে পুনরায় নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জেলার চারটি আসনেই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণমূলক এই নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই জেলাজুড়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ আফরোজা আক্তার জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
মন্তব্য করুন
